বকশীগঞ্জ

বকশীগঞ্জে ব্রাইট স্কুল বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মতিন রহমান,বকশীগঞ্জ: জামালপুরের বকশীগঞ্জে ব্রাইট স্কুলের মালিক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও নগর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। নগর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে ব্রাইট স্কুলের কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করার আলটিমেটাম দিয়েছে।

রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় জিন্না বাজারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ব্রাইট স্কুলের পরিচালক ইসমাইল হোসেন সরকারি নির্দেশনার প্রতিবাদে শিশুদের ব্যবহার করে মানববন্ধন করিয়েছেন। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদ রানা এবং নগর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নগর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নামে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ব্রাইট স্কুলের মালিকের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করে, ব্রাইট স্কুলের মালিক নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা নৈতিকতা ও শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্রাইট স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ করা না হয়, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাট্টাজোড় নগর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আহমেদ সুমন, তামিম তালুকদার, নাসীর উদ্দিন, রেজাউল করিম, রোমান, নীলা আক্তারসহ আরও অনেকে। বক্তারা সকলেই ইসমাইল হোসেনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

নগর মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী জানান, ব্রাইট স্কুলের রেজিস্ট্রেশন করার কোনো আইনি ক্ষমতা নেই এবং তারা নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্কুলটি পরিচালনা করছিল। তিনি বলেন, “আমার এবং ইউএনও-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদই প্রমাণ করে যে সত্য ও ন্যায় এখনও সমাজে জাগ্রত।”

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা ইউএনও মাসুদ রানার কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

Related Articles

Back to top button