বকশীগঞ্জ
জালিয়াতির দায়ে এমপিও বন্ধ, সেই শিক্ষকই এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ: অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার সত্যতা মিলেছে সরকারি তদন্তে, বন্ধ হয়ে গেছে মাসিক বেতন-ভাতা (এমপিও)। অথচ সেই শিক্ষককেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
স্থানীয়রা জানান- বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ তাঁর আপন শ্যালিকা শরিফা আক্তারকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ব্যাক ডেট’ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দীর্ঘ ১৬ মাস পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরাও জানতেন না।
পরবর্তীতে এ নিয়ে অভিযোগ উঠলে জামালপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পৃথক দুটি তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় মাউশি সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের এমপিও বন্ধ করে দেয়।
সোমবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা মাউশির এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান।
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন- “যিনি দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে দণ্ডস্বরূপ বেতন-ভাতা হারিয়েছেন, তাঁকে কোন যুক্তিতে প্রশাসনিক শীর্ষ পদে বসানো হলো? আমরা এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই।”
সহকারী শিক্ষক মাসুদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- “একজন বিতর্কিত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হলে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হবে। আমরা দ্রুত তাঁর অপসারণ চাই।”
সাবেক অভিভাবক সদস্য মনিরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন-‘তাঁকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে না সরালে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই বলেন- “মাউশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই শরিফা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




