মিরাজুল ইসলাম, জাবিপ্রবি: পবিত্র রমজান উপলক্ষে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘গণ-ইফতার’ ও ‘সিরাত প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
রোববার (১ মার্চ) জামালপুর শহরে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র কমিউনিটি সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটির জাবিপ্রবি শাখা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান- বিশাল এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে এবং সবাইকে এক জায়গায় মিলিত করার উদ্দেশ্যেই ভেন্যুতে এই পরিবর্তন আনা হয়। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিপুল সমাগম ঘটে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকায় তাঁরাও অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে এই আয়োজনে অংশ নেন।
জাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি হাফেজ মো: মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ফাহাদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জামালপুর জেলা আমির আব্দুস সাত্তার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি আসাদুল ইসলাম, সাবেক জেলা সভাপতি প্রভাষক মোহাম্মদ আলী, সাবেক জেলা সভাপতি জিয়াউল হক এবং জামায়াতের শহর শাখার আমির ও সাবেক জেলা সভাপতি আল ইমরান সুজন।
এর আগে, রোববার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের ৫ রাস্তা মোড়ে অবস্থিত উইজডোম কলেজে (ব্রহ্মপুত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ক্যাম্পাস) সিরাত প্রতিযোগিতার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘আদর্শ মানব মুহাম্মদ (সা.)’ বইটির ওপর ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। সন্ধ্যায় ইফতার অনুষ্ঠানে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাঁদের হাতে নগদ অর্থ, বই ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ২ হাজার টাকা, বই ও উপহার পান সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা ফারহিয়া তালুকদার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ এবং ১ হাজার টাকা ও উপহার পান ইইই বিভাগের মাসরুর জামান মোল্লা এবং সমাজকর্ম বিভাগের নাঈমুর রহমান।
এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকারী সমাজকর্ম বিভাগের মো. মাসুদ রানা ও রাবেয়া খাতুনকে ৫০০ টাকা ও উপহার দেওয়া হয়। তালিকায় ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে থাকা ভূতত্ত্ব বিভাগের মুশফিকুর রহমান খন্দকার, সমাজকর্ম বিভাগের রিজান্তা ইশিতা তৃপ্তি, নুসরাত জাহান কনা, মিমি এবং ইইই বিভাগের সা. মাজিদ হোসেনকে দেওয়া হয় বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার।
এই সমন্বিত আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ছাত্রশিবিরের জাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি ফাহাদ আহমদ বলেন- ‘পবিত্র রমজান আত্মশুদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির এক অনন্য সুযোগ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক কাতারে এনে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করাই এই গণ-ইফতারের অন্যতম লক্ষ্য। এর পাশাপাশি, সিরাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নবী করিম (সা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করা এবং সেই মহান আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করার অনুপ্রেরণা জোগাতেই আমাদের এই আয়োজন।’
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন- ‘রমজান মাসে এমন একটি প্রতিযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ ছিল। এর মাধ্যমে প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবনী খুব গভীরভাবে পড়ার ও জানার সুযোগ হয়েছে।’
এদিকে, গণ-ইফতার ও সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ইফতারে অংশ নেওয়া সাকিব নামের এক শিক্ষার্থী তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন- ‘ক্যাম্পাসের সবার সঙ্গে মিলে এমন বিশাল পরিসরে একসঙ্গে ইফতার করার আনন্দ সত্যিই অসাধারণ। বিশেষ করে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ছিল তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ জানাই।’
সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নিশাত নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রমজান মাসে এমন একটি প্রতিযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ ছিল। এর মাধ্যমে প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবনী খুব গভীরভাবে পড়ার ও জানার সুযোগ হয়েছে, যা আমাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগবে।’
ইফতার মাহফিলে আগত সকল শিক্ষার্থীর মাঝে পবিত্র রমজানের ক্যালেন্ডার, ‘রমজানের ডাক’ নামক বিশেষ প্রকাশনা এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির নসিহা (উপদেশ সংবলিত বার্তা) বিতরণ করা হয়।




