এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ
বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ শিক্ষা কর্মকর্তার
এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার তেঘরিয়া শাহেদ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জোনাইল নয়াপাড়া ফাতেমা খান মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই ফরম পূরণ করিয়েছেন।
জানা গেছে- চলতি বছর ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি বিভাগভেদে ভিন্ন। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে চতুর্থ বিষয়সহ মোট ফি নির্ধারিত হয়েছে ২,৪৩৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য ২,৩১৫ টাকা। এ অর্থ বোর্ড ফি ও কেন্দ্র ফি মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সুযোগ রয়েছে ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এবং ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬।
তবে অভিযোগ রয়েছে, উল্লিখিত দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভাগ নির্বিশেষে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কোচিংয়ের নামে আরও দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে জামানত নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাঁদের দাবি, এই জামানত বিষয়ে কোনো লিখিত নীতিমালা বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একজন অভিভাবক বলেন, “সরকার নির্ধারিত ফি জোগাড় করতেই আমাদের হিমশিম খেতে হয়। সেখানে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।”
এ বিষয়ে তেঘরিয়া শাহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এস. এম. ফরহাদ হোসেন প্রধান শিক্ষকের বরাত দিয়ে জানান, টেস্ট পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড ফি’র সঙ্গে আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ দুই-একশ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে। যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে, তাদের কাছ থেকে কোচিং ফিসহ তিন থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জামানত বাবদ পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হলেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
তিনি দাবি করেন, এতে কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের আপত্তি নেই।
অন্যদিকে, জোনাইল নয়াপাড়া ফাতেমা খান মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম প্রথমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে প্রতি বিষয়ের জন্য আলাদা ফি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, প্রতি শিক্ষার্থী চার হাজার করে টাকা দিলে ফরম পূরণ করা যাবে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) ছানোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন-“এসএসসি ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি আদায় করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ” অতিরিক্ত ফি নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি কোন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেয় তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে”।




