বাবু পাঠানের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরে এক নারীর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, বাউন্ডারী ওয়াল ভাংচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক দল নেতা বাবু পাঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী ।
ভুক্তভোগী নারী রুনা নাজনীন জামালপুর পৌরসভার খুপিবাড়ী এলাকার এস এম আমিনুল ইসলামের স্ত্রী। আর অভিযুক্তরা হলেন- কুটামনি গ্রামের মোঃ ময়েন উদ্দিন সরকারের ছেলে মোঃ আব্দুল জলিল এবং ফুলবাড়িয়া পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকার মৃত এনামুল পাঠানের ছেলে বাবু পাঠান।
বাবু পাঠান জামালপুর পৌর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৮নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।
এই ঘটনায় গত ২৬ জানুয়ারি জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী রুনা নাজনীন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- খুপিবাড়ী এলাকায় অবস্থিত তার জমি তিনি বিগত ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। জমি ক্রয়ের পর তিনি নিয়মমাফিক সেখানে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়- একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমির একটি অংশ দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পূর্বে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও আদালত তা খারিজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে- গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, লোকবল নিয়ে তার বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে জমি দখল করা হবে এবং বাধা দিলে প্রাণনাশ করা হবে। একইদিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার জমিতে প্রবেশ করে বাউন্ডারী ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলে।
পরদিন সকালে তার দোকানদার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান- জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য রাখা রড ও সিমেন্টসহ আনুমানিক দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী আরও জানান, স্থানীয় লোকমারফতে তিনি জানতে পেরেছেন যে, অভিযুক্তরা পুনরায় অধিক সংখ্যক লোকজন নিয়ে এসে সম্পূর্ণ বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা করতে পারে। এতে তিনি নিজের ও তার সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও আশঙ্কায় রয়েছেন।
এ ঘটনায় তিনি আইনগত প্রতিকার চেয়ে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবু পাঠান মোবাইল ফোনে বলেন-‘আমার নামে যে অভিযোগ করেছে আমি তাকে চিনি না। উনাকে অন্য নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে অন্য কেউ কথা বলেছে। আমি এটা জানিনা। আমি এই বিষয়ে অবগত না।’
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন-‘আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’




