ভোটের দিন ভাগ্নিকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় মামা গ্রেফতার
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার উত্তর জোড়খালী এলাকায় বন্না আক্তার (৩০) নামের এক গৃহবধুকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় তাঁর মামা সোহেল (৪০)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে উত্তর জোড়খালী থেকে সোহেলকে গ্রেফতার করে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ।
শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান।
নিহতের নানা আনার আলী (৬৫) বলেন- বৃহস্পতিবার সকালে নাতনি বন্নাকে বাড়িতে রেখে সবাই জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাই। ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি রুবি ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে। গলায় ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে জবাই করা ও হাতে কাটা চিহ্ন রয়েছে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী সুমন মিয়া জানান- নির্বাচনের দুই দিন আগে চর গোপালপুর থেকে তার স্ত্রী রুবিকে নানা বাড়ি উত্তর জোড়খালীতে রেখে আসেন। ভোটের দিন তিনি শুনেন রুবি আত্মহত্যা করেছে। ঘরের মেঝেতে গলার ও হাতের আঘাতের চিহ্ন সহ তাকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি মাদারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি করেছেন।
ঘটনার পর নিহতের নানা বাড়ির আত্মীয়স্বজন দরজা ভেঙে বন্নাকে উদ্ধার করে এবং আত্মহত্যার বক্তব্য ছড়িয়ে দেয়।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন- ‘ঘটনাস্থলে তদন্তকালে আমরা দেখতে পেয়েছি দরজা ভেঙে উদ্ধার ও আত্মহত্যার প্রচার মিথ্যা। বাইরের কোনো প্রভাবিত দরজা ভাঙার চিহ্ন আমরা পাইনি। গলায় জবাই ও হাতে কাটা আঘাত দেখে আমরা হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করছি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের জন্য তদন্ত করা হচ্ছে এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সনাক্তের চেষ্টাও চলছে।’
শাকের আহমেদ আরও বলেন- ‘শনিবার সকালে নিহতের স্বামী লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে নিহতের মামা সোহেলকে সন্দেহভাজন হিসেবে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে তাকে জামালপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে।’




