অফিস বাদ দিয়ে বিএনপির সমাবেশে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা
সাকিব আল হাসান নাহিদ, মেলান্দহ: জামালপুরে নিজের অফিস বাদ দিয়ে বিএনপির সমাবেশে অংশগ্রহন করেছেন প্রথম শ্রেণীর একজন সরকারি কর্মকর্তা। সেখানে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্যের মাধ্যমে ভোট চান তিনি। আবার সেই সমাবেশে অংশগ্রহনের ছবি ও বক্তব্য দেয়ার ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন ৯ম গ্রেডের এই কর্মকর্তা।
সেই কর্মকর্তার নাম মোঃ মনিরুজ্জামান। তিনি মেলান্দহ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পদে রয়েছেন এবং জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার এমন কর্মকান্ড সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ৫ (১) ও ৫ (২) লঙ্ঘন হয়েছে বলে জানা যায়।
গতকাল রোববার বিকেলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাটিকামারী এলাকায় ৪,৫ও ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী সমাবেশটির আয়োজন করেন ইউনিয়ন বিএনপি। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী ) আসনের বিএনপি মনোনিত এমপি প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। বিকেল থেকে শুরু হয়ে সমাবেশটি চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বক্তব্য দেন মোঃ মনিরুজ্জামান। তিনি তার বক্তব্যে শামীম তালুকদারের পক্ষে ভোট চান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- সমাবেশের জন্য রোববার সারাদিন মেলান্দহ পৌরসভার কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান। এই বিষয়টি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে। তবে ভয়ে কেউ কোনো বক্তব্য দেয়নি।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন- ‘প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী-কর্মকর্তা কোনো ধরনের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ্রগহন করতে পারেন না। বক্তব্য দিতে পারেন না। আমরা এমন কর্মকর্তাদের সচেতন থাকার আহŸান জানায়। আর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানায়। এখন ব্যবস্থা গ্রহন করলে সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তা এসব দেখে শিক্ষা নিবে এবং এসব থেকে বিরত থাকবে।’
এসব বিষয়ে জানতে সোমবার বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটের দিকে মোঃ মনিরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে তিনবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরপর ১২ টার দিকে ফোন করলে তিনি বলেন-‘আমার এমন কাজ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা লঙ্ঘন হয়, এটা আমি জানি। আমি যা করেছি। সব জেনে শুনে করেছি। আপনি দেখা করে সাক্ষাতে কথা বলেন। আর আমি তো আমার ফেসবুকে সব দিয়েছি। আপনারা সব জানেন।’
তবে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মেলান্দহ পৌর প্রশাসক এস.এম. আলমগীর মোবাইল ফোনে বলেন-‘তিনি গত সপ্তাহে অফিসে ছিলেন না। গতকাল এবং আজকেও অফিসে নেই। তার এসব বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর গতকাল তার ফেসবুক আইডিতে সমাবেশে অংশগ্রহনের ছবিটি ও বক্তব্য দেয়ার ভিডিও দেখতে পাই। এসব ছবি ও ভিডিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। আজ অফিসিয়ালি জানানো হবে। এখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।’




