ইসলামপুরে মরিচের ভ্রাম্যমাণ হাটে জমজমাট বেচাকেনা
ফিরোজ শাহ, ইসলামপুর: অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর চরাঞ্চলের মাটি এবং রোগবালাই কম থাকায় জামালপুরের ইসলামপুরে এবার মরিচ চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন ভালো হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ মরিচের হাট। যেখানে প্রতিদিনই চলছে জমজমাট বেচাকেনা। এতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি কৃষকরা।
উপজেলার চরপুটিমারি, গোয়ালিনী, পলবান্ধা, চিনাডুলি ও আশপাশের চরাঞ্চলে ব্যাপক হারে মরিচের আবাদ হয়েছে। ক্ষেতজুড়ে লাল ও সবুজ মরিচের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। ভোর থেকেই কৃষকরা ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ করে নৌকা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে নিয়ে আসছেন হাটে।
স্থানীয়রা জানান- উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সপ্তাহের কয়েকদিন অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ হাট বসছে। এসব হাটে স্থানীয় আড়তদার ও পাইকাররা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ কিনছেন। এখান থেকে মরিচ যাচ্ছে জামালপুর সদরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে।
কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি মরিচের দাম মান ভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ভালো লাভের আশা করছেন তারা।
চরপুটিমারি এলাকার মরিচ চাষি আব্দুল কুদ্দুস বলেন-‘এবার আল্লাহ ভালো ফলন দিছে। ক্ষেত ভরা মরিচ। হাটে এনে সহজেই বিক্রি করা যাচ্ছে। দামও মোটামুটি ভালো।’
আরেক কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন-‘আগে বাজারে নিতে অনেক ভোগান্তি হতো। এখন ভ্রাম্যমাণ হাট হওয়ায় মাঠের কাছেই বিক্রি করতে পারছি, এতে সময় ও খরচ দুটোই কমছে।’
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো ফয়সাল আহমেদ জানান- ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ফলন আরও বাড়াতে উন্নত জাত ও আধুনিক চাষ পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’




