জামালপুরপ্রধান খবর

অপেক্ষার প্রহর শেষে ভোট দিচ্ছে জামালপুরের প্রবাসীরা

হৃদয় আহাম্মেদ শাওন, জামালপুর: প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে শুরু করেছেন প্রবাসীরা। বিদেশে অবস্থান করে দেশের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত র‌্যামিটেন্স যোদ্ধারা। এরপর থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও বাকি সব নির্বাচনেও ভোট দেয়ার সুযোগ চান তারা। আর প্রবাসীদের মহামূল্যবান ভোট সঠিকভাবে গননার দাবি জানিয়েছে জামালপুরের প্রার্থীরা।

২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ভোট দিতে শুরু করেছেন জামালপুরের প্রবাসীরা। পোস্টাল বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের পর ব্যালট পেয়ে ভোট দিচ্ছেন তারা।

জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের তথ্যমতে-জামালপুর জেলায় দেড় লাখের বেশি ভোটার প্রবাসে অবস্থান করলেও পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ১৬ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে অনুমোদন পেয়েছেন ১৬ হাজার ২৫৫ জন। জামালপুর-১ আসনে অনুমোদিত হয়েছে ২,৮২০ জন, জামালপুর-২ আসনে ২,০২৭ জন, জামালপুর-৩ আসনে ৪,৮১৬ জন, জামালপুর-৪ আসনে ২,৪৫৫ জন এবং জামালপুর-৫ আসনে অনুমোদিত হয়েছে ৪,১৭৯ জন প্রবাসী ভোটার। নিবন্ধনের দিক থেকে এগিয়ে জামালপুর-৩ আসন, আর সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে জামালপুর-২ আসন।

দেশে খোঁজ খবর নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে গর্বিত র‌্যামিটেন্স যোদ্ধারা। শত ব্যস্ততার মাঝেও দেশ মাতৃকার টানে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাতে পেরে আনন্দিত প্রবাসীরা।

সৌদি আরব প্রবাসী জুয়েল আহম্মেদ বলেন- ‘দেশে প্রার্থীদের খোঁজ খবর নিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছি। এখন এটা দেশে পাঠাবো। প্রবাস থেকে নিজের দেশের নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পেরে আমি গর্বিত। এতে আমি আমার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছি।’

জামালপুর-৫ আসনের ভোটার লন্ডন প্রবাসী আরমানুল হাবিব জিহান বলেন- ‘এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। আমি গতকালকেই আমার ভোটটি দিয়েছি। গতকালকেই পোস্ট করেছি, আমার ভোটটি দিয়ে। এটা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমার আত্মবিশ্বাস ও কর্তব্যবোধ থেকেই আসছে। দিতে হবে, করতে হবে। এর জন্যই করছি।’

জাপান প্রবাসী রিশাদ রহমান বলেন- ‘পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে আমি এই বছর ভোট দিতে পেরে আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি এবং অনেক ভালো লাগছে। বিদেশের মাটিতে বসে এভাবে ভোট দিতে পারবো। এটা কখনো চিন্তাও করতে পারিনি। যার জন্য আমি অনেক এক্সসাইটেড এবং আমি অনেক প্রাউড ফিল করছি।’

তবে নিবন্ধনের বিষয়ে না জানা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ না থাকায় ভোটের বাইরে রয়ে গেছে প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার প্রবাসী ভোটার।। তাই পরের বার থেকে এই বিষয়ে প্রচারনা বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভোট দেয়ার সুযোগ চান প্রবাসীরা। আর প্রবাসীদের ভোট যথাযথভাবে গননার দাবি জানিয়েছে প্রার্থীরা।

আমেরিকা প্রবাসী নাফিজা আনজুম রওজা বলেন-‘এইবার সকল প্রবাসী নিবন্ধন করেনি। তাই আগামীতে যে সরকারই আসুক। তাদের কাছে আমাদের দাবি- পোস্টাল ভোট নিবন্ধনের বিষয়টি যাতে আরো সহজ করে আর এই বিষয়ে প্রচার-প্রচারনা বাড়ায়।’

লন্ডন প্রবাসী সৈয়দ শামীম জামান বলেন- ‘আমি চাই, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন না। প্রবাসীরা যেনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশগ্রহন করতে পারে এবং এই প্রক্রিয়া যেনো আরো সহজ করে। সরকারের কাছে আমার এই আবেদন থাকবে’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জামালপুর-৫ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন-‘নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছে আমাদের বিনম্র আরজ হলো- যাতে প্রবাসীরা স্বচ্ছতার সাথে ভোট দিতে পারে। তাদের ভোট সঠিক যথাস্থানে গননা করা হয়। এক্ষেত্রে যেনো কেনো ব্যাত্তয় না ঘটে। এদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য আমি বিনম্র আবেদন করছি।’

Related Articles

Back to top button