ইফতার-সেহরির আগমুহূর্তে কোন দোয়া পড়বেন
পবিত্র রমজান মাস মুমিনদের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরির সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। সঠিক নিয়ম ও দোয়া না জানার কারণে আমরা অনেকেই এ মূল্যবান সময়গুলো হারিয়ে ফেলি।
নিচে ইফতার ও সেহরির দোয়া, এর গুরুত্ব সহজভাবে তুলে ধরা হলো-
ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিবেচনায় সূর্যাস্তের ঠিক আগের সময়টুকু অত্যন্ত দামী। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না; ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২)।
আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য শেষ রাতের ইবাদত-বন্দেগি ও প্রার্থনার কোনো বিকল্প নেই। নবী করিম (সা.) বলেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন, ঘোষণা করেন—কে আছ আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছ আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে দান করব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)।
ইফতার শুরু ও শেষ করার জন্য আলাদা দোয়া-
ইফতার শুরুর দোয়া
ইফতার করার ঠিক আগে এ দোয়াটি পড়তে হয়: আরবি: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই রোজা রেখেছিলাম, আপনার দেয়া রিজিক দ্বারাই ইফতার করলাম। (আবু দাউদ)
ইফতারের পরের দোয়া
ইফতার শেষ করার পর রাসুল (সা.) এ দোয়াটি পড়তেন: আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ উচ্চারণ: জাহাবাজ জমাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুক্বু ওয়া ছাবাতাল আজরু, ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো, ইনশাআল্লাহ সওয়াবও নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ)
৩. শেষ রাতের দোয়া ও সেহরির গুরুত্ব
আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য শেষ রাতের ইবাদতের কোনো বিকল্প নেই।
- ক্ষমার ঘোষণা: নবী করিম (সা.) বলেছেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মহান আল্লাহ পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন। তিনি ডাকতে থাকেন— কে আছ আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।
- তাহাজ্জুদ ও সাহরি: সেহরির আগে বা পরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এ সময় মনের আকুতি আল্লাহর কাছে পেশ করার শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
৪. সেহরির পর রোজার নিয়ত
যদিও মনে মনে সংকল্প করাই নিয়তের জন্য যথেষ্ট, তবুও অনেকে মুখেও নিয়ত করেন। আরবি: نَوَيْتُ اَنْ اَصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اَللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আসুমা গাদান মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ুন। ইফতার করার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে দোয়া করুন। অন্যকে ইফতার করালে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়, সে সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।




