জামালপুরপ্রধান খবর

রমজানের শেষভাগে জামালপুরে বেড়েছে মুরগির দাম

কমতে শুরু করেছে সবজির মূল্য

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে জামালপুর শহরের বাজারগুলো। তবে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কিছুটা অস্বস্তিও। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বিপরীতে শীতকালীন বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে জামালপুর শহরের গেইটপাড় সকাল বাজার ও ফৌজদারি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহের  ব্যবধানে সোনালি কর্ক মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির দাম বেড়ে কেজিতে দাড়িয়েছে ৩২০ টাকাতে।

ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ২২০-২৩০ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬৫০ টাকা কেজি দরে। বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গেইটপাড় সকাল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা দলিল লেখক ময়না আকন্দ বলেন- “প্রতিবছরই রমজানের শেষের দিকে মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”

তিনি জানান, গত সপ্তাহে তিনি কর্ক মুরগি কিনেছিলেন ৩৩০ টাকা কেজি দরে, যা এখন বেড়ে ৩৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

সরকারি কর্মকতা মোঃ আলম বলেন- “সবসময় তো বাজারে আসা হয় না। বেশ কয়েকদিন আগে বাজার করতে আসছিলাম। সেদিনের থেকে আজ মাছ মাংসের দাম অনেকটাই বেশি । প্রশাসনের উচিত ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা।”

অন্যদিকে শীতকালীন বেশিরভাগ সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মূলা, লাউ ৪০ থেকে ৫০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ২০ টাকা কমে ৫০থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই সঙ্গে কাঁচামরিচের দামও কমেছে। কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। লেবু ও শশার দামও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে  লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা হালি ধরে।

মাছের বাজারেও দামে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। ইলিশের কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০০ থেকে ১৬০০টাকায়। এছাড়া রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলু ও পেঁয়াজের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

জামালপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: শরীফুল ইসলাম বলেন- “বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ পরিস্থিতি আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। কোথাও অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে স্বাভাবিক মূল্য ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।”

ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে মুরগির দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে কিছুটা চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

Related Articles

Back to top button