জামালপুরপ্রধান খবর

বিদেশের মাটিতে জামালপুরের প্রবাসীদের ঈদ: কর্মব্যস্ততা আর স্বজনদের বিরহ

স্টাফ রিপোর্টার: পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূর প্রবাসে কাটছে জামালপুরের হাজারো মানুষের জীবন। উন্নত জীবনের স্বপ্ন আর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশায় তারা ছড়িয়ে আছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা দেশে। হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর জীবন সংগ্রামের মাঝে ঈদের আনন্দ কেবল স্বজনদের সাথে মুঠোফোনে আলাপেই সীমাবদ্ধ। একদিকে প্রিয়জনদের দূরে রাখার বেদনা, অন্যদিকে কর্মস্থলের ব্যস্ততা-সব মিলিয়ে প্রবাসীদের ঈদ উদযাপনের গল্পগুলো বরাবরই কিছুটা ভিন্ন।

উন্নত জীবনের স্বপ্ন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর তাগিদে দেশ ছেড়েছিলেন তারা। জামালপুরের সেই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আজ পালন করছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। দেশে ঈদ মানেই ছিল নতুন পোশাক, আত্মীয়স্বজনের ভিড়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। তবে এই আনন্দ উৎসবে নেই আপনজনদের সান্নিধ্য, নেই মায়ের হাতের সেমাই কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা।  বিদেশের মাটিতে প্রতিটি ঈদই যেন স্মৃতির রোমন্থন। দেশে কাটানো ঈদের দিনগুলোর কথা মনে করে প্রবাসীরা পার করছেন সময়। পরিবারের মানুষগুলোর ভালো থাকাটাই তাদের ঈদের বড় উপহার।

জামালপুরের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা জানান- প্রতিটি ঈদই তাদের কাছে হয়ে ওঠে স্মৃতিময়। দেশের ঈদের দিনগুলোর কথা মনে করে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সবার ভাগ্যে ঈদের ছুটি জোটে না। অনেকেই কর্মস্থলের কঠোর নিয়মের মধ্যে থেকেই দিনটি পার করেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেই তাদের কাটাতে হয় ঈদের দিন। ফলে উৎসবের আমেজ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।

কয়েকজন প্রবাসীর সাথে কথা হলে ভিডিও বার্তায় সৌদি আরবের রিয়াদ প্রবাসী মারুফ বলেন- “আমরা পরিবার ছাড়া ঈদ করি, পরিবার ছাড়া ঈদ করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। আমাদের সবার কথা মনে পরলেও বিশেষ করে বাবা মার কথা বেশি মনে করে, বন্ধু দের সাথে আড্ডা দেওয়া ছোটদের সালামি দেওয়ার কথা খুব মনে পড়ে।”

সৌদি আরব প্রবাসী জুয়েল রানা বলেন- ‍“আমরা আসছি যত বছর হোক না কেনো। যদি একটা ঈদ যাই সেটাও ফ্যামিলি ছাড়া করতে হয় ।ফ্যামিলি বাড়িতে থাকে,‌ ফোনের মাধ্যমে ফ্যামিলির সাথে কথা বলা, তাদের খোঁজ খবর নেওয়া, ঈদের সময় তারা মার্কেট করলে আমাদের শান্তি লাগে। এটাই আমাদের চাওয়া পাওয়া।”

উৎসবে মেতে ওঠার সুযোগও মেলে না সকল প্রবাসীর। অনেক প্রবাসীর ভাগ্যে জোটেনি ঈদের ছুটিও। কর্মস্থলের ব্যস্ততা সামলেই কোনোমতে দিনটি পার করতে হচ্ছে তাদের। বিদেশের কঠোর নিয়মে উৎসবের আমেজ ফিকে হয়ে আসা এই মানুষগুলো কিছুটা ব্যথিত হলেও দেশের সমৃদ্ধিতে তারাই যোগাচ্ছেন মূল রসদ। তবুও পরিবারের ভালো থাকার খবরই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উপহার।

দুবাই প্রবাসী রানা- “আমাদের প্রবাসীদের কোন ঈদ নাই ভাই, এখন কাজে যাবো আবার কাল কখন আসবো তার কোন ঠিক নেই, এর নামি প্রবাস।”

কাতার প্রবাসী তানভীর আজাদ মামুন বলেন- “ঈদের দিন ও আমাদের কাজ আছে, ডিউটি যে যেতে হবে। আমাদের ঈদ বলতে কিছু নেই । ফ্যামিলি সাথে কথা বলে তারা মার্কেট করেছে কিনা , ফোন যোগাযোগ করা আমাদের প্রবাসীদের এতটুকুই শান্তি ভাই ।”

জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর জেলার দেড় লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে মালয়েশিয়া, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

Related Articles

Back to top button