ইসলামপুরপ্রধান খবর

বেগুন ও শসা ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, দিশেহারা চাষীরা

ফিরোজ শাহ, ইসলামপুর: জামালপুরের ইসলামপুরে এবার বেগুন ও শসার চাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পোকার আক্রমণ। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সবজীর ন্যায্য দাম নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এতে হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। এদিকে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সঠিক কীটনাশক ব্যবহারের অনুরোধ উপজেলা কৃষি বিভাগ।

জামালপুর ইসলামপুরে চর পুটিমারী, চর গোয়ালিনীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে শীতের আগাম বেগুন চাষ করছেন চাষীরা। কিন্তু এসব ক্ষেতে পোকার আক্রমণে দিশেষহারা চাষীরা। বেগুন গাছগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সার ডিজেলসহ কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় এই মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেশি। তাই লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছে বেগুন চাষীরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পাওয়ারও অভিযোগ কৃষকদের।

চর গোয়ালীনি ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক মমতাজ উদ্দিন জানান- তার ৫ বিঘা জমিতে আগাম ইরি জাতের বেগুন চাষ করেছেন, পোকা ও বালাইনাশকের কারণে ফলন নেই, গাছ মরে যাচ্ছে। এখন ফসলের খরচ উঠানো নিয়ে চিন্তায় সে।

উপজেলায় প্রতি বছরের মতো এবছরও কিছু অঞ্চলে চাষ হয়েছে আগাম শসা। চাষীরা বলছেন- নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করলেও পোকার দমন হচ্ছে না শসার মাঠ থেকে। তীব্র রোদ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শসা ক্ষেতে। অনেকেই ঋণ নিয়ে শসা চাষ করে, এখন সেই টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন তারা।

চরপুটিমারী গ্রামের কৃষক এনতাজ আলী বলেন-‘গত বছর শসার ভালো দাম দেখে এবছর ১০ বিঘা জমিতে শসার চাষ করেছেন। পোকার আক্রমণে শসার ফলন কমে গেছে, কীটনাশক স্প্রে করেও কোন প্রতিকার মিলছে না।’

কৃষকদের অভিযোগ উপজেলা জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে কীটনাশকের দোকান। কীটনাশক বিক্রেতাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ব্যবস্থাপত্র দেখে কীটনাশক দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছে না বেশির ভাগ কীটনাশক বিক্রেতা।

এবিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জামালপুর নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম’কে জানান-আগাম সবজি চাষে চাষীদের নিয়মিত পরামর্শ মেনে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ তার এবং বেগুন ও শসা চাষীদের মাঠ পর্যায়ে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করারও অনুরোধ করেন তিনি।

Related Articles

Back to top button