স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুর সদর উপজেলায় আয়োজিত এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চাপাবাজ একাদশ ও ঠকবাজ একাদশ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর শেষ মুহূর্তে গোলকিপারের অবিশ্বাস্য গোলে ৫-৫ সমতায় শেষ হয়েছে নাটকীয়তায় ভরা এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৫টায় সদর উপজেলার আউলাই শাহবাজপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ৯০ মিনিটের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে চমৎকার ফুটবল খেলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ঠকবাজ একাদশ। তবে দ্বিতীয় অর্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় চাপাবাজ একাদশ। টানা চার গোল করে একপর্যায়ে তারা ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
খেলার শেষ আট মিনিটে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ঠকবাজ একাদশ। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দ্রুতই একটি গোল শোধ করে ব্যবধান ৫-৪ এ নামিয়ে আনে তারা। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে প্রতিপক্ষের ফিরিয়ে দেওয়া বল নিজেদের অর্ধে পান ঠকবাজ একাদশের গোলরক্ষক। সেখান থেকেই নেওয়া এক দূরপাল্লার শটে বল সরাসরি প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষকের এই নাটকীয় গোলে ৫-৫ সমতায় ফেরে দল। গোলটি হওয়ার পরপরই সেন্টার কিকের সাথে সাথে রেফারি শেষ বাঁশি বাজান।
ম্যাচ শেষে ঠকবাজ একাদশের অধিনায়ক মিনহাজ আহমেদ রাজন জানান- শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতাই তাদের খেলায় ফিরতে সাহায্য করেছে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দলের খেলোয়াড়দের হাল না ছাড়ার প্রশংসা করে শেষ মুহূর্তের গোলটিকে বিশেষ একটি স্মরণীয় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে হাতছাড়া হওয়া জয় নিয়ে চাপাবাজ একাদশের তরুণ খেলোয়াড় তানজিদ বললেন- “আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম। তবে ফুটবল এমনই অনিশ্চয়তার খেলা। শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করলেও ম্যাচটি ছিল বেশ উপভোগ্য।” ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলার চেষ্টা থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
র্শকদের কাছে ম্যাচটির চেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল দুই দলের ব্যতিক্রমী নাম ‘চাপাবাজ’ ও ‘ঠকবাজ’।
জানা গেছে, এর আগে সাহাপুর ০০৭-এর উদ্যোগে একই মাঠে দুই দলের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ম্যাচে বর্তমান ঠকবাজ একাদশ ৭-৩ গোলে হেরে যায় বর্তমান চাপাবাজ একাদশের কাছে। এরপর বিজয়ী দলের খেলোয়াড়রা প্রায়ই সাত গোলের সেই জয়ের কথা বলে প্রতিপক্ষকে খোঁচা দিতেন।
একপর্যায়ে পরাজিত দলের অধিনায়ক মিনহাজ আহমেদ রাজন মজার ছলে বলেন, “আমরা হারছি, তাই আমরা ঠকবাজ। আর তোরা বারবার সাত গোলের গল্প শুনিয়ে চাপ দিস, তাই তোদের নাম চাপাবাজ।”
এরপর থেকেই দুই দলের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিতে ‘ঠকবাজ একাদশ’ ও ‘চাপাবাজ একাদশ’ নাম ব্যবহার শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে নাম দুটি স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
খেলা শেষে এমন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ আয়োজনের জন্য মাঠের দর্শক এবং দুই দলের খেলোয়ারেরা আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান।




