৬৫ দিনে ২৬ ট্রান্সফরমার চুরি: অন্ধকারে বহু পরিবার
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি। গত ৬৫ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা। চুরির ঘটনায় থানায় একাধিক অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফলে নতুন ট্রান্সফরমার পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
ট্রান্সফরমার চুরির কারণে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ট্রান্সফরমার প্রথমবার চুরি হলে নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হয়। একই ট্রান্সফরমার দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো দামই বহন করতে হয় তাদের। আকস্মিক এই অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন, মাদারগঞ্জ পৌরসভার গ্রাবেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত ২৯ আগস্ট ট্রান্সফরমার চুরির পর অর্ধেক টাকা জোগাড় করতে না পারায় অন্তত ৪০টি পরিবার এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে। একই চিত্র জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী এলাকাতেও, সেখানেও চুরির পর থেকে অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী- চলতি বছরে মাদারগঞ্জে মোট ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার বড় অংশই ঘটেছে গত দুই মাসে। গত ২ জুলাই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। এর মধ্যে জুলাই মাসে ৬টি, আগস্টে ১৭টি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে চুরি হয় ৩টি।
মূলত ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার তার ও কয়েল ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই চুরি সংঘটিত হচ্ছে। বর্তমানে ৫ কেভিএ ক্ষমতার ট্রান্সফরমারের দাম ৬৩ হাজার ৩৪৫ টাকা, ১০ কেভিএ ৯০ হাজার ১২৫ টাকা, ১৫ কেভিএ ১ লাখ ২ হাজার ৯৮০ টাকা এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমারের দাম প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা।
এদিকে লোডশেডিংয়ের সময় নিশ্চিত হয়েই চোরেরা কয়েল খুলে নেওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরীণ চক্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয়দের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান, চোরচক্রকে শনাক্ত করতে বিশেষ দল কাজ করছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী দীর্ঘদিনেও চোর না ধরা পড়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চুরি প্রতিরোধে পুলিশ, এলাকাবাসী ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে লোডশেডিং ও রক্ষণাবেক্ষণে বিদ্যুৎ বিভাগকে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি জানান, পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগ কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না।




