
মো: মিরাজুল ইসলাম,জাবিপ্রবি: রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও প্রকাশ্যে গায়ে হাত তোলার হুমকির প্রতিবাদে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) এক ছাত্রদল নেতাকে সর্বসম্মতিক্রমে বয়কট করেছেন তাঁর সহপাঠীরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থীরা লিখিত এক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানান।
বয়কটের শিকার সাখাওয়াত হোসেন জিকু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ঘোষণাপত্রে ব্যাচের ২৭ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর রয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন ধরে জিকুর অসদাচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তাঁদের ব্যাচের ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অভিযুক্ত জিকু ছাড়া বাকি সবাই এই বয়কটের বিষয়ে একমত। যাঁরা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় স্বাক্ষর করতে পারেননি, তাঁরাও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রে জিকুর বিরুদ্ধে মূলত তিনটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো: সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা; বিভাগ ও ক্লাসের যেকোনো দলগত কাজ বা সিদ্ধান্তে একক প্রভাব খাটানো এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে সহপাঠীদের গায়ে হাত তোলার হুমকি ও মানসিক নির্যাতন।
শিক্ষার্থীরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখন থেকে সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের কোনো ক্লাস, প্রেজেন্টেশন, স্টাডি ট্যুর বা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অভিযুক্ত জিকুকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। সহপাঠীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুতই সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন জিকুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে ক্যাম্পাসে কেউ বিশৃঙ্খলা বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




