শেরপুরে পর্যটকদের নতুন গন্তব্য হারিয়াকোনা গারো পাহাড়

রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: সবুজ পাহাড়, উঁচু টিলা, নির্জন লাল মাটির পথ আর ঢেউফা নদীর জলধারায় ঘেরা শেরপুরের হারিয়াকোনা গ্রাম। শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ঘেরা এই জনপদটি ধীরে ধীরে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখন ছুটে আসছেন অপরূপ সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিতে।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পুরাখাসিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢেউফা নদী হারিয়াকোনা ও বাবেলাকোনা গ্রাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীর তীর ঘেঁষে থাকা সবুজ পাহাড় ও টিলাগুলো এলাকার সৌন্দর্যকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। এলাকাটির প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ গারো সম্প্রদায়ের। তাঁদের সহজ সরল জীবনযাপন, পাহাড়ি সংস্কৃতি ও কৃষিকাজ পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে চোখে পড়ে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের সীমানাখুঁটি, মেঘালয়ের ছোট বড় পাহাড়, সীমান্ত সড়ক এবং কাঁটাতারের বেড়া।
শেরপুর জেলা সদর থেকে হারিয়াকোনার দূরত্ব প্রায় ৪৪ কিলোমিটার। শ্রীবরদী উপজেলার মেঘদল বাজার থেকে দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটার এগোলেই শুরু হয় আঁকাবাঁকা মাটির পথ। ঢেউফা নদীর পাড় ধরে সামনে বাড়লে চোখে পড়বে আদিবাসী উচ্চবিদ্যালয়, খেলার মাঠ, গারো সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, রাবার বাগান এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ছোট ছোট বসতঘর। সমতল থেকে হেঁটে পাহাড় চূড়ায় উঠলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ প্রান্তর। বর্ষাকালে স্থানটি সতেজ রূপ নেয়, আর শীতে মেঘ ও কুয়াশা মিলে তৈরি করে এক মোহনীয় পরিবেশ। ভোর ও বিকেলের শান্ত প্রকৃতি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে রাখে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে হারিয়াকোনার পরিচিতি এখন অনেক বেড়েছে।
ঘুরতে আসা ফাহমিদা সরকার সাইমা জানান- এখানে নদী, পাহাড় ও প্রকৃতিকে একসঙ্গে উপভোগ করার পাশাপাশি গারোদের জীবনযাপন খুব কাছ থেকে দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার কষ্ট সবুজের অপার সৌন্দর্য নিমিষেই ভুলিয়ে দেয়।
আরেক দর্শনার্থী রাশেদুজ্জামান লাভলু মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
সীমান্তঘেঁষা ৮৮৭ একর বনভূমিজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ২০ থেকে ৩০ মিটার উচ্চতার বেশ কয়েকটি টিলা।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া জানান, হারিয়াকোনা সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রায় ৮০০ একর জুড়ে রাবার বাগান রয়েছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এখানে তাঁবু খাটিয়ে রাতে থাকতে চাইলে বন বিভাগের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।




