বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নতুন রুপে সেজে উঠছে জাবিপ্রবি
মোঃ মিরাজুল ইসলাম, জাবিপ্রবি: প্রতিষ্ঠার নবম বছরে পা রাখতে যাচ্ছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি)।
আগামী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) উদযাপিত হবে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’। এ উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস সেজেছে বর্ণিল সাজে। পুরোনো রূপ ঝেড়ে ফেলে সাদা-হলুদের নতুন আবরণে আচ্ছাদিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো। আর সন্ধ্যার পর লাল-সবুজ আলোর ঝলকানি ক্যাম্পাসকে দিচ্ছে ভিন্ন মাত্রা।
সরেজমিনে দেখা যায়- দিবসটি ঘিরে ক্যাম্পাসে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল এবং সীমানাপ্রাচীর থেকে পুরোনো রং মুছে ফেলা হয়েছে। সেখানে শোভা পাচ্ছে সাদা ও হলুদ রঙের নতুন থিম। নতুন রঙে উজ্জ্বল ভবনগুলোকে দেখে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা এটিকে ‘জামালপুরের হোয়াইট হাউস’ বলেও অভিহিত করছেন।
দিবসটি উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযানেও এসেছে গতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মচারীদের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার কাজে স্বেচ্ছাশ্রমে হাত লাগিয়েছে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ স্বপ্ন’। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের ভেতরের সড়ক ও সড়কের দুই পাশের গাছে লাগানো হয়েছে আলোকসজ্জা।
সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাস যেন আলোর নগরীতে পরিণত হয়। জোনাকির মতো ছোট ছোট বাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে চারপাশ। বিশেষ করে সোনালী, লাল ও সবুজের আলোকসজ্জা ক্যাম্পাসে অন্য রকম আবহ তৈরি করেছে। বর্ণিল এই আলোকসজ্জা দেখতে এবং ছবি তুলতে ভিড় করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের মূল আয়োজন হবে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। সেখানে চলছে বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় মঞ্চ মাতাবেন দুই বাংলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আমিরুল মোমেনিন মানিক। আর রাতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে গান পরিবেশন করবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’।
ক্যাম্পাসের এই নান্দনিক সাজসজ্জায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের রুচিশীল ও শৈল্পিক মানসিকতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তাঁরা বলছেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বে এবার দ্বিতীয়বারের মতো দিবসটি উদযাপিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, অতীতের সব আয়োজনকে ছাপিয়ে এবারের উৎসবটি হবে শ্রেষ্ঠ এবং সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা সার্থক হয়ে উঠবে।
উৎসবমুখর এই পরিবেশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। সবার এখন অপেক্ষা শুক্রবারের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।




