মেলান্দহ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে ৪০০ নারী-পুরুষের হাতে নতুন কম্বল

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আমগোরে এহানে এতো জাড়, আগে হই নাই। বুড়ো মানুষ হাঁটবার-চলবার পাই না। জাড়ে আইতে (রাত) ঘুমাবার পাই না। বাইতে (বাড়ী) যে খ্যাতা আচে-তা পাতলা, গায় (শরীর) দিলেও জাড় লাগে। আজগে নতুন কম্বল পাইয়ে আমার খুব ভালো লাগজে। আইতের বেলা গায় দিয়ে ঘুমাবো। এই মুটা কম্বল গায় দিলি আর জাড় লাগবো না।’ এই কথাগুলো জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের মুন্সি নাংলা গ্রামের ৭৭ বছর বয়সী সুজি বেওয়ার।

টানা দুই সপ্তাহ ধরে বয়ে চলা মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জামালপুরে জবুথবু অবস্থা। মধ্য দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় দিশেহারা অসহায় মানুষ। এমন অবস্থায় সুজি বেওয়ার মতো সুবিধাবঞ্চিত, হতদরিদ্র ও অসহায় শীতার্ত ৪০০ নারী-পুরুষের হাতে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের উপহার নতুন কম্বল তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহিদুল হক ও চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) শারমিন আলম।

শুক্রবার সকালে কনকনে শীত উপেক্ষা করে মেলান্দহ উপজেলার মুন্সি নাংলা গ্রামের গ্রীন বায়োটেকনোলজি কারখানার একটি মাঠে কম্বর নিতে জড়ো হন মুন্সি নাংলা, নলকুড়ি, চারাইলদার ও দেউলাবাড়ি গ্রামের শীতার্ত বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষেরা। এ সময় বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহিদুল হক, চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা (সিওও) শারমিন আলম ও নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কিসমত পাশাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এর আগেও গত সপ্তাহে মুন্সি নাংলা গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষেরা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নতুন কম্বল বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির নতুন কম্বল পান ‍উপজেলার চারাইদার গ্রামের হাছনা বেগম (৫৮)। মুখভরা হাসি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দের মধ্যে বাড়ি। আইতের (রাত) বেলা ঘরে বাতাস হু হু করে ঢোকে। তখন খুব জাড় (ঠান্ড) লাগে। আইতে খুব কষ্ট হয়। এই কম্বলে ভালো হইলো। আইতে এহন জাড় কম করবে।’

কম্বল পেয়ে ৫৭ বছর বয়সী নাংলা গ্রামের তুতা মিয়া বলেন, ‘কৃষি কামকাজ কইরে চলি। হারা দিন (সারা দিন) খেতে কাম করি। হন্ধ্যে (সন্ধ্যা) বেলা বাইত (বাড়ি) যাই। অহন (তখন) খুব জাড় লাগে। আমগোরে এলাকায় বেশি জাড়। খেতা (কাঁথা) দিয়ে জাড় কাটে না। আইতে হাইরে জাড় করে! বাবাগো, তুমগোরে কম্বলডা পাইয়া খুব উপকার হইলো। কম্বলডা গায়ে দিয়ে আইতের বেলায় শান্তিতে ঘুমামু (ঘুমানো)।’

কম্বল বিতরণের সময় বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহিদুল হক বলেন,‘তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে নিশ্চয় শীতার্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষেরা কষ্ট করছেন। প্রচণ্ড হিমেল হাওয়ার কারণে অসহায় অনেক মানুষ দিশেহারা। এসব শীতার্ত মানুষের কিছুটা কষ্ট লাঘবে আমাদের এই উদ্যোগ। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, বরং মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

Related Articles

Back to top button