মেলান্দহ

সময় পার করে কোটেশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের মেলান্দহে ঝাউগড়া সরকারি কলেজে নানা সামগ্রী ক্রয় করার জন্য নেওয়া কোটেশন গোপন রেখে সময় পার হয়ে যাওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, কোনো ঠিকাদার যেন এই কোটেশনে অংশ নিতে না পারে সেই জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় ঠিকাদাররা।

জানা গেছে, মেলান্দহের ঝাউগড়া সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বইপত্র ও সময়িকী, অন্যান্য মনিহারী, শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ, কম্পিউটার সামগ্রী, কম্পিউটর মেরামত, ক্রীড়া সামগ্রী, পোশাক, গবেষণা সরঞ্জামাদি ও রাসায়নিক সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঠিকাদার/ব্যবসায়ী আহ্বান করা হয়। যেখানে কোটেশন সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর দেওয়া হয়। পাশাপাশি জমাদানের শেষ তারিখ দেওয়া হয় ২৮ ডিসেম্বর। আর কোটেশন খোলা বা মূল্যায়নের তারিখও ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে- ২৮ ডিসেম্বর কোটেশন জমাদানের তারিখের পর দিন ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ওয়েব সাইটে নোটিশ আকারে দেওয়া হয়। এতে যারা এই কোটেশনে দরপত্র কিনে অংশ নেওয়ার কথা তারা বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকে এই বিজ্ঞাপন দেওয়ার কথা থাকলেও নাম সর্বস্ব একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ায় নজরে আসেনি কারো। আর কলেজের স্বারক নং উল্লেখ নেই এই বিজ্ঞপ্তিতে।

এই কোটেশন বিজ্ঞপ্তিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- এই কলেজের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন চক্রান্ত করে নিজেরা কাজ করার জন্য এমন গোপন করেছে বিজ্ঞপ্তি। তা না হলে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কথা প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে। কিন্তু তা করা হয়নি। আমরা যারা ঠিকাদার রয়েছি তারা আজ কলেজের ওয়েব সাইটে গিয়ে দেখি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া, সেখানে লেখা শেষ সময় ২৮ ডিসেম্বর। এখন কিভাবে সময় শেষ হওয়ার পর এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো কলেজ কর্তৃপক্ষ। এটা তদন্ত করে দেখা হোক।

এ বিষয়ে কোটেশনটির সভাপতি মো: আব্দুল্লাহ আল আমীন বলেন-‘অফিসিয়াল সব প্রসিডিউর মেনে আমরা এই কোটেশন কাজ সম্পন্ন করেছি। এখন ওয়েব সাইট সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কাজ, কেনো কলেজ কর্তৃপক্ষ দেরি করলো সেটা তারাই বলতে পারবে।’

এদিকে কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দেরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ঝাউগড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: তোফাজ্জল হোসেন বলেন-‘আমরা এই বিষয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছি। তারাই সব কিছু পরিচালনা করছে। আমি কম্পিউটার অপারেটরকে বলেছিলাম প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে আপলোড করার জন্য। কিন্তু অপারেটর বলেছে তার মনে নেই।’

আর স্বারক নং এর বিষয়ে বলেন-‘এটা ভুল হয়েছে। জানিনা কোটেশনটির দ্বায়িত্ব প্রাপ্তরা কি করেছে।’

Related Articles

Back to top button