এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: নিরঙ্কুশ সমর্থন ও রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর জামালপুর–৩ (মাদারগঞ্জ–মেলান্দহ) আসনের জনগণ নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল-কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেন তিনি। এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত ছিল এবং দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম-এর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এমন একটি শক্ত ঘাঁটিতে বাবুলের বিজয়কে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়া এই নেতাকে এবার মন্ত্রিসভায় দেখতে চান সর্বস্তরের জনগণ। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল অবস্থানে গেলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন-এসবই এখন সময়ের দাবি। তাদের বিশ্বাস, বাবুল মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।
মাদারগঞ্জের কোয়ালিকান্দী বাজারের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন-“আমরা কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চাই। নদীভাঙন, বেকারত্ব আর অবকাঠামোগত পিছিয়ে পড়া-এই সমস্যাগুলোর সমাধানে শক্ত অবস্থান দরকার। তিনি মন্ত্রী হলে তা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবেন।”
বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বলছেন-‘মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান। জামালপুর–৩ আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
মাদারগঞ্জ পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক রকিব লিটন বলেন-“মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল একজন অহিংস, জনবান্ধব ও আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মুখেও তিনি কখনো আদর্শচ্যুত হননি। এ কারণেই ভোটাররা তাকে আপন করে নিয়েছেন। তিনি মন্ত্রিসভায় থাকলে শুধু এই আসন নয়, পুরো জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।”
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন-“অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমার কাছে সবাই সমান। আমি সবার এমপি। সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর–৩ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪১২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। ফলে এক লাখ ২৫ হাজার ৯৮২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হন।




