পুলিশের চেকপোস্টে ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ
শাওন মোল্লা,জামালপুর: জামালপুর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর ও একটি পিকআপ ভাঙচুর করেছে। প্রায় আড়াই ঘন্টা থেকে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুদ্ধ লোকজন।
শুক্রবার দুপুরে জামালপুর-শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র সেতুর দক্ষিণ পাশে জামালপুর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার মাহমুদ (৫০) ও তাঁর ছেলে ইসতিয়াক আহম্মেদ (২০)। তাঁর ছোট ছেলে মোহাম্মদ আবরার (৫) গুরুতর আহত। দেলোয়ারের বাড়ি শেরপুর জেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ারচর এলাকায় বাড়ি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান-সকাল থেকে জামালপুর-শেরপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র সেতুর দক্ষিণ পাশে জামালপুর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়েছিল। এ সময় দুপুর দেড়টার দিকে জামালপুর শহর থেকে দেলোয়ার মাহমুদ ও তাঁর দুই ছেলেকে মোটরসাইকেল করে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁকে চেকপোস্টে থামার সংকেত দেন। সংকেত পাওয়ার পর তাঁরা চেকপোস্টে থামেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সামনে গিয়ে ধাক্কা খান। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার ও তাঁর ছেলে ইসতিয়াক মারা যান। আর ছোট ছেলে আবরারকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও বিক্ষুদ্ধ লোকজন প্রথমে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়ক অবরোধ করে, বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বিক্ষুদ্ধ লোকজন পুলিশ সদস্যদের মারধর ও তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করে। প্রায় ৩০ মিনিট তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন লোকজন। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় দুপুর দুইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ওই সড়কটি অবরোধ করে রাখা হয়েছে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অন্তর বলেন- ‘আমরা হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরে দৌড়ে এসে দেখি দুইজন রাস্তায় পড়ে আছে। পাশে আরেকটি ছোট বাচ্চা পরে রয়েছে। ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।
পরে আমরা ছোট শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠায় ।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল অভিযোগ করে বলেন- ‘ঘটনার পর আমরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেই। কিন্তু তারা সময়মতো আসেনি। যদি ঠিক সময়ে আসতো, তাহলে অন্তত একজনকে বাঁচানো যেতো। তাদের গাফিলতির কারণেই দুইজনের প্রাণ গেলো ।’
এদিকে হৃদয় আহমেদ নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন- ‘দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ সঠিক ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিল। ঘাতক ট্রাকটি আটক না করে সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আমরা দেখেছি।’
জামালপুর ফায়ার সার্ভিস সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন- ‘ঘটনা জানার পর আমরা ঘটনা স্থলে আসি নিহত মরদেহ গুলো উদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে।’
তবে এই বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




