জামালপুর

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যাচেষ্টা, আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুর দেওয়ানগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়-  ইসলামপুরের মুরদাবাদ এলাকার আশা মনির সাথে দেওয়ানগঞ্জের বেলতৈলী এলাকার বাধনের বিয়ে হয় চার বছর আগে। বিবাহের সময় নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, প্রায় দেড় লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদান করা হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়- বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী বাধন পুনরায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বামী মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

পরবর্তীতে আপোষ-মীমাংসার আশ্বাসে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে পুনরায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর ও গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরাও তাকে কিল-ঘুষি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি নাবালক সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এবিষয়ে আশা মনি বলেন-‘আমাকে যৌতুকের জন্য তারা মারধর করতো, আমার স্বামী,শশুড় ও শাশুড়ী আমাকে আর আমার সন্তানের উপর নির্যাতন চালাতো ‘

আশা মনি আরও বলেন-‘আমার স্বামী একজন প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরক্রীয়া করে। সেই প্রবাসীর স্ত্রী আমার স্বামীকে টাকা দিতো। সেজন্য আমার স্বামী, শশুড়, শাশুড়ী সবাই ওই প্রবাসীর স্ত্রীর কথা শুনতো আর আমায় অত্যাচার করতো। আমি এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী বাঁধন জানান-‘এগুলো সবই মিথ্যা বরং আমার স্ত্রী আমাকে অতিমাত্রায় সন্দেহ করে।  সে আমার উপর মিথ্যা দোষারোপ করছে।’

Related Articles

Back to top button