ইসলামপুরপ্রধান খবরবিশেষ সংবাদ

৫০ বছর ধরে বিনা বেতনে মসজিদের দায়িত্ব পালনে মকবুল

ফিরোজ শাহ, ইসলামপুর: মানুষ যখন জীবিকার তাগিদে ব্যস্ত, তখন কেউ একজন নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে উৎসর্গ করেন ধর্ম ও সমাজের সেবায়। জামালপুরে তেমনই এক নীরব সেবক মকবুল হোসেন।

আর্থিক অসচ্ছলতা থাকার সত্বেও যিনি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বিনা পারিশ্রমিকে মসজিদের খেদমত করে যাচ্ছেন। ৭২ বছর বয়সী নিঃসন্তান মো মকবুল হোসেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও থেমে নেই তার মুসল্লীদের খেদমত করা। ভোরের নীরবতা ভাঙার আগেই জেগে ওঠেন তিনি। যখন চারপাশ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই শুরু হয় তার দিনের প্রথম দায়িত্ব আল্লাহর ঘরকে প্রস্তুত করা মুসল্লিদের জন্য। কোনো বেতন নেই, নেই কোনো চাওয়া-পাওয়া তবুও থেমে নেই তার পথচলা, টানা তিন যুগের বেশি সময় ধরে।

ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী ইউনিয়নের জারুলতলা এলাকায় বসবাস করেন মকবুল হোসেন। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তার দিন। মসজিদ পরিষ্কার রাখা, মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুত করা, আযানের ব্যবস্থা সব দায়িত্বই তিনি পালন করেন নিজের দায়িত্ববোধ থেকে, কোনো বেতনের প্রত্যাশা ছাড়াই।

স্থানীয়দের কাছে তিনি শুধু একজন খাদেম নন, ভালোবাসা ও সম্মানের এক প্রতীক। দীর্ঘ সময় ধরে তার এই নিঃস্বার্থ সেবা যায়গা করে নিয়েছে এলাকাবাসীর হৃদয়ে। এই মসজিদের প্রতিটি ইট, প্রতিটি কোণ যেন চেনে তার স্পর্শ।

এলাকাবাসীরা জানান- মকবুল হোসেন বছরের পর বছর নিজের ঘরের মতো আগলে রেখেছেন আল্লাহর এই ঘর।

সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনধারা। কিন্তু বদলায়নি তার দায়িত্ববোধ আর ভালোবাসা। দীর্ঘদিন ধরে একই নিষ্ঠায় তিনি আগলে রেখেছেন জারুলতলা জামে মসজিদ। তিনি সবাইকে মসজিদে এসে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।

সংসার জীবনে তিনি নিঃসন্তান, সংসারে অভাব অনটন থাকলেও হাত বাড়ান না কারো কাছে, তার ইচ্ছে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত মসজিদের সেবা করে যাওয়ার। মসজিদের খেদমতের বিষয়ে তেমন কোনো কথা বলতে উৎসাহী নন মকবুল হোসেন। তবুও কাপা কাপা কণ্ঠে তিনি বলেন-“সংসার নিয়ে ভাবিনি কখনো। আমার কোন চাওয়া পাওয়া নেই।”

নিঃসন্তানের আক্ষেপ থেকেই সে এই কাজ বেছে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সময়ের হিসাব তিনি রাখেন না। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নিঃশব্দে করে যাচ্ছেন সেবা। হয়তো ইতিহাসের পাতায় তার নাম লেখা হবে না, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তিনি হয়ে থাকবেন অনুপ্রেরণা।

Related Articles

Back to top button