যমুনায় নাব্যতা সংকট: বন্ধের উপক্রম মাদারগঞ্জ–সারিয়াকান্দি নৌপথ
এই পথে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই যমুনা নদী-তে দেখা দিয়েছে তীব্র নাব্যতা সংকট। এতে বন্ধের উপক্রম হয়েছে মাদারগঞ্জ–সারিয়াকান্দি নৌপথ। প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়রা জানান- মাদারগঞ্জ থেকে সারিয়াকান্দি পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। বর্ষা মৌসুম শেষে পানি কমে গেলে যমুনার বুকে অসংখ্য চর জেগে ওঠে। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও আবার ডুবোচর-ফলে নৌচলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সারিয়াকান্দির জামথল নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করলেও নাব্যতার অভাবে মাঝনদীতেই নৌকা আটকে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
এই পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- সড়কপথে মাদারগঞ্জ থেকে বগুড়া যেতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। সময় ও খরচ সাশ্রয়ের জন্যই তারা নৌপথ বেছে নেন। কিন্তু নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ডুবোচরে নৌকা আটকে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। ফলে যাত্রীরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
শাহজামাল নামের এক যাত্রী জানান- চাকরির সুবাদে তিনি উত্তরবঙ্গে থাকেন। সময় ও খরচ বাঁচাতে নিয়মিত নৌপথে যাতায়াত করতেন। তবে বর্ষা মৌসুম ছাড়া এই পথ এখন প্রায় অচল। নৌঘাটে বালুচর পেরিয়ে নৌকায় উঠতে হয়, এরপর মাঝনদীতে একাধিকবার নৌকা আটকে যায়-সব মিলিয়ে যাতায়াত হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
ফজলুর হক নামের এক ব্যবসায়ী বলেন-“আগে নদীপথে মালামাল পরিবহন করতেন। কিন্তু চর জেগে ওঠায় মালবোঝাই নৌকা চলাচল করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে এখন সড়ক পথেই পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ।”
নৌকা চালক, ইজারাদার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- ২০২১ সালের ১২ আগস্ট নৌপথ সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্যোগে ২০০ আসনবিশিষ্ট ‘শহীদ আঃ রউফ সেরনিয়াবাত’ নামের একটি ফেরি (সি-ট্রাক) উদ্বোধন করা হয়। তবে নাব্যতা সংকটের কারণে কয়েক মাস চলাচলের পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সরকারি কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি- দ্রুত যমুনা নদী খননের মাধ্যমে নৌপথটি পুনরায় সচল করা হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ ও সারিয়াকান্দি নৌপথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা না থাকায় তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঢাকাস্থ দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষের মন্তব্য মেলেনি।




