মাদারগঞ্জপ্রধান খবর

আত্মগোপনে থেকে টানা ১৫ মাস বেতন তুললেন মাদরাসা সুপার

এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে আত্মগোপনে থেকে টানা ১৫ মাস বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সাঈদ বিন আকবর উপজেলার গুনারীতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার। অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। কর্মস্থলে না থেকেও মাসের পর মাস তার বেতন তোলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির তথ্যমতে- সাঈদ বিন আকবর আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালক ছিলেন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এর আগে তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জেলা ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সমবায় সমিতির ওই অর্থ কেলেঙ্কারির কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মস্থলে না থাকায় মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পলাতক থাকা অবস্থায়ও তিনি প্রায় ১৫ মাস নিয়মিত সরকারি অংশের বেতন-ভাতা তুলেছেন।

এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সাঈদ বিন আকবর অসুস্থতাসহ নানা কারণ দেখিয়ে প্রায় ১৫ মাস ছুটি ভোগ করেছেন। এরপর তিনি আরও ছয় মাসের বিনা বেতনের ছুটি নিয়েছেন, যার মধ্যে বর্তমানে দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আজহারুল ইসলামের ভাষ্য- প্রধান ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিত না থাকায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়ত নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শফিকুল হায়দার উল্লেখ করেন- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। তারা কেবল পরামর্শ দিতে পারেন। প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে তারা জানিয়েছেন, সুপারকে হয় বিনা বেতনে ছুটির আবেদন করতে হবে, নয়তো তাকে অনুপস্থিত হিসেবে দেখাতে হবে। সেক্ষেত্রে তার বেতন-ভাতা বন্ধ থাকবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের কোনো আইনি বৈধতা নেই। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মাদরাসা সুপার সাঈদ বিন আকবরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Related Articles

Back to top button