বন্যা দুর্গত ৩৮ পরিবারের পাশে জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এসব পরিবারের প্রত্যেককে নগদ এক হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী কদম রসুল, ডোংরা ও খানখানাবাদ গ্রামে বন্যায় অসংখ্য বসতঘর, কৃষিজমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, পানি নেমে যাওয়ার পর দুর্গত মানুষদের পুনর্বাসনের কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ত্রাণ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে কদম রসুল গ্রামের বিধবা সানোয়ারা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি উল্লেখ করেন, বন্যায় তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। স্বামী ও স্বজনহীন এই নারীর এখন ঘরবাড়িও নেই। কোনোমতে বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তা তাকে নতুন করে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ডোংরা গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আক্তারের ভাষ্য, বন্যায় তাদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি সবই নষ্ট হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটাবেন, সেই দুশ্চিন্তায় তার ঘুম আসে না।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও জামালপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় তারা মোট ৬৪ হাজার ২৮৩ টাকা সংগ্রহ করেছেন। এরপর যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি গ্রামের ৩৮টি পরিবারকে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুরুতে টিন কিনে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নাজুক যোগাযোগব্যবস্থা, সময়ের সীমাবদ্ধতা ও স্বেচ্ছাসেবক স্বল্পতার কারণে নগদ অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, খুব শিগগিরই আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অর্থ বিতরণের সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ, কোষাধ্যক্ষ সজরুল ইসলামসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।




