মেলান্দহ

অনুমতি ছাড়া মায়ের মরদেহ উত্তোলন: যুবদল নেতার হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

অভিযুক্ত যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের মেলান্দহে প্রশাসন বা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। ‘জিনের নির্দেশে’ জীবিত ভেবে মরদেহ উত্তোলনের এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধিসহ একাধিক সাংবাদিক।

ঘটনাটি ঘটেছে জেলার মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর মাহমুদপুর গ্রামে।

গত ১ আগস্ট রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে হালিমা খাতুন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। পরদিন ২ আগস্ট শনিবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর মৃত নারীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তাদের ওপর ‘জিনের আসর’ হয়েছে এবং হালিমা খাতুন এখনও জীবিত আছেন। সেই দাবির ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৮টার দিকে কোনো প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করেন স্বজনেরা।

মরদেহ উত্তোলনের পর প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে এবং পরে মেলান্দহ ও জামালপুর শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সব হাসপাতালের  পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গভীর রাতেই পুনরায় মরদেহটি দাফন করা হয়।

আইনানুযায়ী, দাফনের পর মরদেহ রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার আওতায় চলে যায় এবং তা উত্তোলনে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া মরদেহ উত্তোলন দণ্ডবিধির ২৯৭ ধারা অনুযায়ী স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন।

এদিকে এ ঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক মশিউর রহমান। মেলান্দহ থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় মাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির ও তার ভাইয়েরা তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর করতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে তার ভাই হালিম মাদানি সাংবাদিকদের কটু মন্তব্য করে তাড়িয়ে দেন এবং পরবর্তীতে কেউ এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির দাবি করেন, থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকলে তারা আইনগতভাবেই জবাব দেবেন। তাদের কাছে ঘটনার ভিডিও রয়েছে মন্তব্য করে তিনি জানান, মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা ঠিক না। তবে অনুমতি ছাড়া মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের ফেসবুক পেজ দেখার কথা বলেন এবং আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুনও বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।

Related Articles

Back to top button