মাদারগঞ্জ

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচারে ছাত্রলীগের মিছিল: আটক ২

এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাজিতেরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান- সম্প্রতি সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় দোষীর দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিকেলে বাজিতেরপাড়া বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন আদারভিটা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিপু হাসান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে দিপু হাসান ও মিরাজ নামে ছাত্রলীগের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন জানান- মাদারগঞ্জে ধর্ষণ,মাদক ও শিশু নির্যাতনের ব্যানারে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল বের করে। শিশু মরিয়ম হত্যার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে। তাহলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিসের জন্য বাজিতেরপাড়ায় মিছিল করেছে। মিছিলে তারা ধর ধর সন্ত্রাসী ধর ধইরা ধইরা জবাই কর, এগুলো স্লোগান দিয়েছে। একই সাথে জয়বাংলা স্লোগানও দিয়েছে। এতেই প্রমাণ করে ধর্ষণ,মাদক ও শিশু নির্যাতনের ব্যানারের আড়ালে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ অরাজকতা করার চেষ্টা করেছে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায়ের সাথে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এরপর সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল)-কে ফোন দেয়া হলে তিনিও সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেনি। পরে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এণ্ড অ্যপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন-‍“পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়নি। পরে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

গত ১০ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে চরলোটাবর এলাকায় প্রতিবেশী জামিনুর ইসলামের বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে তার মাটি চাপা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাহাদুর মণ্ডল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ জামিনুর ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জামিনুর ইসলাম শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

Related Articles

Back to top button