সড়ক নয় যেন আবর্জনার ভাগাড়, পায়ে হেঁটে চলাও যেন কষ্টসাধ্য
পৌরসভার অবহেলা বলছেন স্থানীয়রা
হৃদয় আহম্মেদ, জামালপুর: দেখে মনে হবে এটি আবর্জনার ভাগাড় বা কোন পরিত্যক্ত ড্রেন। কিন্তু না-এটি জামালপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ সড়কের বাস্তব চিত্র।
ভাঙাচোরা রাস্তা, নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না ডাস্টবিন। তার ওপর গত ছয় মাস ধরে ড্রেনও পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে রাস্তায় জমেছে পচা আবর্জনার স্তূপ। ড্রেনের ময়লা উপচে পড়া পানি রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো পরিবেশ হয়ে উঠেছে দুর্গন্ধময় ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ।
এই সড়কে হেঁটে চলাও এখন যেন এক দুরূহ কাজ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নোংরা পানি ও আবর্জনায় রাস্তা কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহা আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তায় উঠে এসে হাঁটাচলাও দুরুহ করে তুলেছে। দুর্গন্ধে বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। ইতোমধ্যে এলাকার কয়েকজন শিশু নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।”
মুসলিমাবাদের ২৪ বছর বয়সী তরুণ সুমন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এ রাস্তায় ময়লার স্তুপ দেখে আসছি। কিন্তু গত ছয় মাসে ড্রেন পরিষ্কারের কোনো কাজই হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পানিতে রাস্তা ডুবে যায়, আর সেই পানিতে ময়লা ভেসে এসে পুরো এলাকা কাদায় পরিণত হয়।”
শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, সৌন্দর্য ও সামাজিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মসজিদের মুসল্লি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মসজিদে যেতে গেলে পা রাখার মতো শুকনো জায়গা নেই। পাঞ্জাবি-মোজা ভিজে ময়লা হয়ে যায়। অনেকে রাস্তার কষ্টে বাধ্য হয়ে এই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসা নিয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি—মুসলিমাবাদ একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করে আসছে। মেয়র ও পৌর দফতরে লিখিত অভিযোগ করলেও কেউ পরিদর্শনে আসেননি।
এ বিষয়ে জামালপুর পৌরসভার সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”