স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ১% ভোটার সমর্থন যাচাইয়ে বাস্তবতা বিবেচনার আহ্বান
হৃদয় আহম্মেদ শাওন,মেলান্দহ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণকারী অর্ণব ওয়ারেস খান নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর/টিপসই সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
খোলা চিঠিতে অর্ণব ওয়ারেস খান উল্লেখ করেন- নির্বাচন বিধি অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ করতে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। জামালপুর-২ আসনে মোট ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন ভোটারের মধ্যে সে হিসাবে ২ হাজার ৮২১ জন ভোটারের সমর্থন প্রয়োজন ছিল।
তিনি জানান, এ লক্ষ্যে স্থানীয় তরুণরা দিন-রাত ল্যাপটপ ব্যবহার করে দীর্ঘ ভোটার তালিকা থেকে ভোটার নম্বর খুঁজে বের করার কঠিন কাজ সম্পন্ন করেন। যদিও তারা ৩ হাজার ১০০-এর বেশি সমর্থন স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন, তবে নির্বাচন কমিশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যারে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮২১ জনের তথ্যই দৃশ্যমান হয়েছে। এর বাইরে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী সংযুক্ত কিছু পারিবারিক ও গ্রামীণ সমর্থকদের নাম গণনার বাইরে থেকে যায়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, অনেক ভোটারের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রে মুদ্রিত নামের সঙ্গে ভোটার তালিকায় থাকা নামের অমিল, ঠিকানার ভুল, নদীভাঙনের কারণে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তর-এসব সমস্যার কারণে ভোটার নম্বর খুঁজে পেতে স্বেচ্ছাসেবীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ফলে অনেক সময় ব্যয় হলেও অনেকের ভোটার নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
অর্ণব ওয়ারেস খান দাবি করেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণরা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার চেষ্টা করেছে। যেসব ভোটারের ভোটার নম্বর পাওয়া গেছে কেবল তাদের নামের বিপরীতে ক্রমিক নম্বর দেওয়া হয়েছে, আর যাদের ভোটার নম্বর পাওয়া যায়নি তাদের নাম ক্রমিক নম্বরের বাইরে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক ভোটার কর্মসূত্রে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করেন। কেউ কেউ ভোরবেলায় চরাঞ্চলে কৃষিকাজে যান, আবার কেউ ব্যবসায়িক কাজে হাট-বাজারে থাকেন, ফলে সব সময় নিজ এলাকায় পাওয়া যায় না।
এমন বাস্তবতায় নির্বাচন কমিশন দৈবচয়নের ভিত্তিতে যে ১০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর/টিপসই মাঠপর্যায়ে যাচাই করবে, সে ক্ষেত্রে উপরোক্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আশা প্রকাশ করেছেন।




