মেলান্দহ

আহ্বায়কের নিয়োগ বাণিজ্য ও ‘প্রশাসন জিম্মি’র পরিকল্পনার প্রতিবাদে ছাত্রদল ছা্ড়লেন মাজহারুল

মিরাজুল ইসলাম, জাবিপ্রবি: ​জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল ফারাবীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ এবং পলাতক ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতি সহানুভূতির অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সিএসসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাজহারুল ইসলাম সাকিব নামের এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী।

​সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। পোষ্টের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ অভিযোগ সংক্রান্ত একটি সংবাদ এবং আর্থিক লেনদেনের চ্যাট হিস্ট্রির স্ক্রিনশট শেয়ার করেন তিনি।

মাজহারুল ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন- তিনি নীতি ও আদর্শের জায়গা থেকে রাজনীতি করতে এসেছিলেন। কিন্তু আহ্বায়কের কর্মকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে হতাশ। তিনি লেখেন, “দুর্নীতির সাথে আপস আমার দ্বারা সম্ভব না। তাই জাবিপ্রবি ছাত্রদলের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আমি আপসহীন।”

পোস্টে মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ উত্থাপন করে দাবি করেন-‘ব্যক্তিগত কথোপকথনের সময় আহ্বায়ক শাকিল ফারাবী তাকে বলেছিলেন, “নির্বাচনের পর আমরাই প্রশাসনকে জিম্মি করব।” এমন বক্তব্য তার রাজনৈতিক চিন্তা ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন মাজারুল।

মাজহারুল আরও অভিযোগ করেন, জাবিপ্রবির পলাতক ছাত্রলীগ নেতা স্বাধীন ও পলাশ (দুজনেই জুলাই গন-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ঘটনায় বহিষ্কৃত) সম্পর্কে শাকিল ফারাবী ইতিবাচক মন্তব্য করতেন, যা তাকে বিস্মিত ও হতাশ করেছে। ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতি আহ্বায়কের এমন মনোভাব তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানে আঘাত হেনেছে বলে জানান তিনি।

রাজনৈতিক মত পার্থক্যের পাশাপাশি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগও আনা হয়েছে পোস্টে।

মাজহারুল জানান- গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে শাকিল ফারাবী তার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নেন, যা পরদিন ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। মাজারুল বলেন, “এখানে বিষয়টি টাকার নয়—বরং বিশ্বাস ও নৈতিকতার।”

সম্প্রতি শাকিল ফারাবীর বিরুদ্ধে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির কথা বলে প্রতারণা’ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মাজহারুল তার পোস্টে সেই সংবাদের ফটোকার্ড যুক্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “যখন আদর্শের জায়গায় আপস, অস্পষ্টতা ও নৈতিক সংকট দেখি—চলে যাওয়াটাই আমার কাছে সম্মানজনক মনে হয়েছে।”

Related Articles

Back to top button