মেলান্দহ

জাবিপ্রবিতে বাস দিয়ে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ: ছাত্রশিবিরের অভিনব প্রতিবাদ

মোঃ মেরাজুল ইসলাম,জাবিপ্রবি: জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে টাঙানো ছাত্র শিবিরের একটি ব্যানার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) একই স্থানে ছিঁড়ে যাওয়া ব্যানারের ছবিসহ একটি প্রতীকী ব্যানার টাঙিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনের প্রধান সড়কের পাশের গাছে ওই শুভেচ্ছা ব্যানারটি টাঙানো হয়েছিল। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ওই রাস্তায় সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল করে না। কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বাস ঢুকিয়ে তাদের ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন টাঙানো ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘এখানে থাকা ছাত্রশিবিরের নিম্নরূপ ব্যানারটি বাস দিয়ে ছিঁড়ে ফেলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ ওই লেখার নিচেই আগের ছিঁড়ে যাওয়া ব্যানারের ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ মো. মামুনুর রশিদ অভিযোগ করেছেন, গত রোববার (১৯ জুলাই) প্রশাসন কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাদের ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। ব্যানারটি কোনো বিধিমালা লঙ্ঘন করেনি জানালে, প্রক্টর হুমকিস্বরূপ মন্তব্য করেন, “কালকে এটা নিয়ে ঝামেলা হবে। তুমি যদি এটা নিয়ে ঝামেলা করতে চাও, তাহলে আমার কিছু করার নেই।” প্রক্টরের সঙ্গে কথোপকথনের এই অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

শাখা শিবিরের সভাপতির ভাষ্য, প্রক্টরের এমন বক্তব্যের পরদিন সোমবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে একাডেমিক ভবনের সামনের সড়ক দিয়ে বাস চালানো হয়। এতে বাসের আঘাতে ব্যানারটি ছিঁড়ে যায়। প্রক্টরের আগের দিনের মন্তব্য এবং পরদিনের এই ঘটনা তাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে তিনি তুলে ধরেন।

তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাস ওই রাস্তায় নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরিবহন পরিচালনা কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বাসটি যেন একাডেমিক ভবনের সামনে পর্যন্ত আসতে পারে, সেজন্য প্রশাসনের নির্দেশে পরীক্ষামূলকভাবে সেটি ওই রাস্তা দিয়ে আনা হয়েছিল। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

অন্যদিকে ব্যানার নিয়ে হুমকির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। সংগঠনটির নেতারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় হবে মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার নিরাপদ স্থান, এখানে কোনো বৈষম্য কাম্য নয়।

এছাড়া গত ২১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন মাঠে শাখা শিবিরের নেতা-কর্মীদের রোপণ করা বেশ কিছু ফলের গাছ সম্প্রতি কে বা কারা উপড়ে ফেলেছে বলেও তারা দাবি করেন।

Related Articles

Back to top button