ইসলামপুর

উপজেলা পরিষদে হট্টগোল: সরকারি কর্মচারীকে মারধর- অভিযুক্ত যুবদল নেতা

 

অভিযুক্ত যুবদল নেতা মলিন

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে এক সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার আব্দুল লতিফ মিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী এবং উপজেলা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি।

স্থানীয় ও সমাজসেবা কার্যালয় থেকে জানা যায়- চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গত ২৫ জুন আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা পুনরায় অনুমোদনের আবেদন করে। এর পরপরই অন্য একটি পক্ষও নতুন কমিটির অনুমোদন চেয়ে আবেদন জমা দেয়। এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ দুটি আবেদনই সমাধানের জন্য জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। মূলত এই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার লতিফ মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ মিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছেন- মঙ্গলবার বিকেলে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ কাজে সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি ইউএনও কার্যালয়ের পাশে গোপনীয় সহকারীর (সিএ টু) কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে তাকে বাইরে যেতে বলা হয়। পেশাগত দায়িত্বের কারণে বাইরে যেতে অপারগতা প্রকাশ করলে যুবদল নেতা মলিনের নেতৃত্বে কয়েকজন ওই কক্ষে প্রবেশ করে এতিমখানার কমিটির বিষয়ে জানতে চান। বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবগত করার পরামর্শ দেওয়ামাত্রই তারা গালাগাল শুরু করেন এবং তাকে কিলঘুষি মারেন। পরে আনসার সদস্য ও অন্য কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা পরিষদের গোপনীয় সহকারী মো. সুমন মণ্ডল জানিয়েছেন, আনসার সদস্য ও কর্মচারীদের চেষ্টাতেই মূলত পরিস্থিতি শান্ত হয়। ইউএনওর উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, তিনি পাশের কক্ষে হৈচৈ শুনে দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা তার চোখে পড়েনি বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিন। তার ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটানো হচ্ছে। এতিমখানার কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছিল এবং তিনি কেবল সেটি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। উল্টো অভিযোগকারী লতিফ মিয়ার বিরুদ্ধে কমিটি অনুমোদনের নামে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন এই যুবদল নেতা।

এ বিষয়ে ইসলামপুরের ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন। পরে এসে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কথা শুনেছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে এরই মধ্যে অবগত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামীকালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Related Articles

Back to top button