১২৮ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই: সংকটে সাড়ে ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই ও সহকারী শিক্ষকের ৭৫টি পদও খালি রয়েছে । একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসেও চলছে চরম জনবল সংকট। ফলে উপজেলার ২০১টি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাড়ে ৬৪ হাজার শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে- মাদারগঞ্জের সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১২৮টি স্কুলেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ২৭টিতে চলতি দায়িত্ব এবং ১০১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর বাইরে সহকারী শিক্ষকের ৭৫টি পদও খালি রয়েছে।
শিক্ষক সংকটের কারণে দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ বাড়ছে, যা শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কোয়ালিকান্দি, ঝাড়কাটা, চরনগর, পূর্ব চরপাকেরদহ, চাঁদপুর সন্ধ্যাজান, বালিজুড়ী আরএ, চর নাংলা, পশ্চিম জটিয়ারপাড়া, চরপাড়া ইসলামিয়া ও জোড়খালীসহ উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়েই এই চিত্র দেখা গেছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে- স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় গুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পরিচালনায় অনেকেই মানিয়ে নিতে পারছেন না, আবার সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা।
অন্যদিকে তোফায়েল আহম্মেদ, এনামুল হক ও নাজিরুল ইসলামসহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনেক শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসেন না। এতে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।
চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত পদোন্নতি ও নতুন শিক্ষক নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।
সংকট কেবল বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও প্রকট। অফিসে অনুমোদিত ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন হিসাব সহকারী, একজন অফিস সহকারী ও একজন অফিস সহায়কের পদ খালি থাকায় কর্মকর্তারা ঠিকমতো বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রশাসনিক তদারকি করতে পারছেন না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান- অবসর, বদলি, মৃত্যু ও আইনি জটিলতার কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে। শূন্য পদের তালিকা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা অফিসের জনবল ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান হলে শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




