জামালপুরে ১৮ গরুর মৃত্যু: ভুল তথ্য দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা
স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের একটি ব্যাটারি কারখানার কারনে ১৮ গরুর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে সেই মামলায় ভুল তথ্য দিয়েছে দপ্তরটি। এতে চলছে নানা সমালোচনা।
গত ২৯ অক্টোবর জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইল ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে পুরনো ব্যাটারির এসিড এবং বর্জ্যে দূষিত ঘাস ও পানি খেয়ে একে একে মারা যায় ১৮টি গরু।
গত ২ নভেম্বর এই ঘটনায় জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন জামালপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সঞ্জিত বিশ্বাস।
মামলার আসামী হয়েছেন- আনোয়ার হোসেন আপেল, মোঃ শাকিল মিয়া ও মোঃ সুজন মিয়া লিখন। তারা তিনজন কারখানার মালিক ও পরিচালক।
তবে মামলায় পরিবেশ অধিদপ্তর উল্লেখ করেছেন- বেলা ৬টার দিকে গিয়ে তারা কারখানাটি ফাঁকা দেখতে পান।
সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়- পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সঞ্জিত বিশ্বাস ঘটনাস্থলে যাবার পর তার সামনেই সেখান থেকে মালামাল সরাতে শুরু করেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। ৬ থেকে ৭ ঘন্টায় কারখানার সকল মালামাল সরিয়ে ফেলেন কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন-‘যে ঘটনাটি ঘটেছে। সেই ঘটনায় সকল মালামাল জব্দ করার কথা ছিলো পরিবেশ অধিদপ্তরের। কিন্তু তারা সেটি না করার ফলে। কম সময়ের মধ্যে কারখানা থেকে মালামাল সরিয়ে ফেলে কর্তৃপক্ষ। এতে লাভবান হয়েছে দোষীরা।’
বিষয়টি স্বীকার করে জামালপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম ছামিউল আলম কুরসি বলেন-‘ সেই দিন বেলা ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান আমাদের দপ্তরের পরিদর্শক সঞ্জিত বিশ্বাস। তিনি একা ছিলেন। তাই সেখানে মালামাল জব্দ করা সম্ভব হয়নি। পরে আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা তাকে আবার যেতে বলি। তিনি আবার বেলা ৬টার দিকে যান। তখন গিয়ে তিনি ঘটনাস্থল বা কারখানাটি ফাঁকা পান। সেই তথ্যটিই মামলায় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আইনে সবকিছু বলা থাকলেও বাস্তবিক অর্থে জনবল না থাকলে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না থাকলে অনেক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়না।’
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন-‘ এসব মামলা নেয়ার এখতিয়ার পুলিশের। কিন্তু এসব তদন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর করবে। তবুও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে এবং আইন অনুযায়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।’




