ইসলামপুরপ্রধান খবররাজনীতি

জামালপুর-২ আসনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দিতা

চর, বন্যা আর নদী ভাঙনই ভোটের মূল ইস্যু

জামালপুর-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারনা করছেন বিএনপির প্রার্থী এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু।

ফিরোজ শাহ, ইসলামপুর: জামালপুর প্রতিনিধি: চর ও বীর, এই হিসাবে বিভক্ত হয় জামালপুর-২ আসনের ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে হবে বিএনপির সাবেক এমপি ও জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এমপি থাকার সময় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী। আর পুরো জেলার মধ্যে এই আসনটি নিজেদের দখলে নিতে দীর্ঘ দিন থেকে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দুইজনই। তবে বন্যা, নদী ভাঙন ও চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে যে প্রার্থী কাজ করবে, তাকেই ভোট দেয়ার কথা জানিয়েছে ভোটাররা।

বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত জনপদ, বন্যা আর নদী ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত আসন ইসলামপুর। গত বারোটি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি জয় পেয়েছিলো দুইবার। ১৯৯৬ সালে তিন মাসের জন্য আর ২০০১ সালে জয়ী হয়েছিলো দলটির বর্তমান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু। আর পুরো জেলার মধ্যে এই আসনে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: ছামিউল হক। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র একজন প্রার্থী রয়েছে ৩৫৩ বর্গকিলোমিটারের এই আসনে।

একটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৫৮ জন, নারী ভোটার ভোটার ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬২৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।

চার প্রার্থীর প্রচার-প্রচারনায় জমে উঠেছে ইসলামপুরের নির্বাচনী মাঠ। তবে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। উপজেলার প্রধান সমস্যা গুলোকে সামনে রেখে ভোটারদের মন জয় করতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। আর ভোটারদের সাড়া পাওয়ায় জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ভবিষ্যতের আইন প্রনেতারা।

বিএনপির প্রার্থী এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু  বলেন- ‘ফ্যাসিস্টরা উন্নয়নের নামে শুধু লোপাট আর লোপাট করেছে। বিএনপি সবসময় শক্তিশালী ছিলো। আগেও ছিলো, এখনো আছে এবং আমার এলাকার জনগন আগামী দিনে ইনশাআল্লাহ ভোটের মাধ্যমে প্রমান করবে। বিএনপির জনগন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভোটাররা শক্তিশালী। ভোটাররা এই এলাকার উন্নয়ন চাই। সেই লক্ষ্যেই তারা ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিবে ইনশাআল্লাহ।’

জামালপুর-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারনা করছেন জামায়াতের প্রার্থী মো: ছামিউল হক।

জামায়াতের প্রার্থী মো: ছামিউল হক বলেন-‘সারা ইসলামপুরের জনগনের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নারীদের মধ্যে উৎসাহটা আরো বেশি। আর এইবারের যুবকেরা আরেকটা বিপ্লব ঘটাতে চাই। ফলে যুবকরা আমাদের পক্ষে কাজ করছে। যেহেতু সর্বস্তরের জনগনের ব্যাপক সাড়া আমরা পাচ্ছি। আমরা ইনশাআল্লাহ বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

তবে ভোটাররা কষছেন ভিন্নরকম হিসাব। শুধু উন্নয়নের ফুলঝুড়ি নয়, সমস্যা নিরসনে কাজ করতে পারা ব্যক্তিকেই মূল্যবান ভোট প্রদানের কথা জানিয়েছেন তারা।

উপজেলার গুঠাইল এলাকার ভোটার আব্দুর রহিম বলেন- ‘আমরা চৈরে মানুষ। নদী ভাঙা মানুষ। এই জায়গায় আছি। আমরা দোকানপাট দিয়ে চা দোকান কইরে খায়। যাকে ডাক দিলে আমরা সাড়া পামু। তাকেই আমরা ভোট দিবো।’

এই আসনের তরুন ভোটার শান্ত বলেন-‘আমরা নদী ভাঙা মানুষ। আঙ্গর নদীর উন্নয়ন যারা করবো। তার পেছনেই আমরা আছি। আমরা সবসময় রাস্তা ঘাট। বন্যার পানি উঠে বাড়ির মধ্যে। কাজ করে নাই এযাবত। ১৭ বছর যাবত কোনো কাজ করে নাই।’

সত্তোর্ধ হযরত আলী বলেন- ‘যাকে ভালো লাগবে, তাকে ভোট দিবো। দেখে শুনে ভোট দিবো। যাতে দেশের মধ্যে কোনো দুর্নীতি বাজ না থাকে। তাকেই ভোট দেয়া লাগবো। ভালো লোককে ভোট দেয়া লাগবো।’

Related Articles

Back to top button