নাব্যতা সংকটে যমুনা নদী, ব্যহত নৌচলাচল
ফিরোজ শাহ, ইসলামপুর: যমুনা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নাব্য সংকট। নদী তীর ঘেঁষে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল চর। ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকাসহ অন্য নৌযান। বেশ কয়েকটি রুটে নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে কৃষকদের। ঘোড়া, গরুর গাড়িসহ বিভিন্ন বিকল্প যানে কৃষিপণ্য বহনে ব্যয় করতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
উত্তরের জনপদ জামালপুর। জীবন-জীবিকা আর যাতায়াতের অন্যতম ভরসা যমুনা নদী। তবে নাব্যতা সংকটে এখন ব্যাহত নৌযান চলাচল। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ। শুকনো মৌসুম এলেই যেন বদলে যায় যমুনার চিত্র। কোথাও জেগে ওঠে বালুচর, কোথাও কমে যায় পানির গভীরতা। ফলে নদীপথে চলাচলকারী নৌকা ও ট্রলার পড়ছে বিপাকে। মাঝনদীতে আটকে যাচ্ছে যাত্রীবাহী নৌযান, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। চরবাসীর জন্য নৌকাই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার কিংবা জরুরি চিকিৎসা সবকিছুতেই নির্ভরতা নদীপথে। কিন্তু নাব্যতা কমে যাওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে তাদের।
জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই নৌকার পথ। তাই দ্রত সমস্যার সমাধান চায় চরবাসী।
ইসলামপুরের একটি ঘাটের ইজারাদার লানজু আহমেদ ও আইনল হক জানান- নিয়মিত ড্রেজিং না থাকায় বছর বছর এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
তারা আরও জানান- এই গুঠাইল নৌ ঘাট থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। কিন্তু নৌযাত্রীদের সুবিধার জন্য কোন উদ্যোগ নেয়নি কৃর্তপক্ষ, নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা স্বাভাবিক রাখা অনুরোধ তাদের।
এবিষয়ে ক্যামারায় কথা না বললেও খুদে বার্তায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুমি আক্তার জানান- ঘাট ইজারা দেওয়া হয় জেলা পরিষদ থেকে তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাব্যতা সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় চরাঞ্চলের মানুষ।




