শ্বশুরকে পিতা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরির অভিযোগ
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি গ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক নারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে। শ্বশুরকে নিজের পিতা হিসেবে দেখিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমী আক্তার বর্তমানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পরিদর্শিকা (FWV) পদে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগ কারীদের দাবি- তার জন্মদাতা পিতার নাম মোজা সরকার হলেও চাকরির কাগজপত্রে পিতার নাম পরিবর্তন করে আবুল কালাম উল্লেখ করা হয়েছে। যিনি তার শ্বশুর বলে জানা গেছে। এভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম উপজেলার ১নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান- পারিবারিক নথিতে মৌসুমী আক্তারের পিতা হিসেবে মোজা সরকার এবং মাতা হিসেবে মরিয়ম বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে। মোজা সরকার ও মরিয়ম বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে মৌসুমী তৃতীয় সন্তান। তার প্রকৃত ঠিকানা জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ গ্রামে ।
তবে চাকরি-সংক্রান্ত নথিতে পিতার নাম মোজা সরকারের পরিবর্তে আবুল কালাম এবং মাতার নাম মরিয়ম বেগমের পরিবর্তে রায়হানা বেগম উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানাও পরিবর্তন করে গ্রাম: কোয়ালীকান্দী, ডাকঘর: তেঘরিয়া, থানা: মাদারগঞ্জ, জেলা: জামালপুর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে জানা যায়- মৌসুমী আক্তার ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পরিদর্শিকা (FWV) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, পিতা-মাতার নাম পরিবর্তন করে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তেঘরিয়া কেন্দ্র থেকে এসএসসি এবং তেঘরিয়া শাহেদ আলী কারিগরি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। একই নামে ২০১৩ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে পরের বছরই তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি লাভ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নব্যচর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন-“আমাদের এলাকার মোজা সরকারের মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয় কালাম মেম্বারের ছেলে আলমগীরের সঙ্গে। পরে সেই মেয়ে শ্বশুরকে পিতা হিসেবে দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মোজা সরকার আদালতের মাধ্যমে তার মেয়েকে কালাম মেম্বারের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু কালাম মেম্বারের ছেলের স্ত্রী কীভাবে তার মেয়ে হয়? ভাই-বোনের মধ্যে কি বিয়ে সম্ভব? তাদের তো সন্তানও হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন- বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে মৌসুমী আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন- “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আপনারা আমার কে? যে আপনাদের সঙ্গে আমার কথা বলতে হবে? কোনো কথা থাকলে অফিসে কথা বলুন।”
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুষমিতা দত্ত বলেন- “আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, তিনি পরিচয় পরিবর্তন করে এখানে চাকরি করছেন-এমন অভিযোগ রয়েছে। আসলে তার নিয়োগ আমরা দিইনি। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাব।”
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলী আমজাদ দপ্তরী বলেন- “এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




