সারাদেশপ্রধান খবর

দর্শনার্থী বরণে প্রস্তুত গারো পাহাড়

রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: শেরপুরের উত্তর সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত গারো পাহাড় বরাবরই প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ। শীতকাল, ঈদ কিংবা বিভিন্ন ছুটির দিনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দীর্ঘ এক মাস রমজানে তুলনামূলক পর্যটক কম থাকলেও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে গারো পাহাড়ের পর্যটন এলাকা। দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে ধোয়ামোছা, রংকরণ ও বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।

গারো পাহাড় শেরপুর জেলার তিনটি উপজেলার উত্তর সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই পাহাড়ি অঞ্চলে রয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এর মধ্যে গজনী অবকাশ কেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্ক সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এছাড়াও পানিহাটা, রাজার পাহাড়সহ আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের আকর্ষণ করে থাকে।

গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম, প্যারাডোবা, ঝুলন্ত ব্রিজ, রোপওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোট ও সাম্পান নৌকার মতো নানা বিনোদন ব্যবস্থা। এছাড়া আলোকের ঝর্ণাধারা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্কসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইডস দর্শনার্থীদের আনন্দ দেয়। ভিউ টাওয়ারে উঠে সীমান্তের এপার-ওপারের পাহাড়ের লুকোচুরি দৃশ্য উপভোগ করা যায়, যা পর্যটকদের জন্য আলাদা আকর্ষণ।

অন্যদিকে মধুটিলা ইকোপার্কেও রয়েছে স্টার ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার, প্যাডেল বোট, ঝর্ণা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা।

সুউচ্চ টিলা ও সেই টিলায় ওঠার দীর্ঘ সিঁড়ি দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। অপেক্ষা করছে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুর পদচারণা হবে।

রমজান মাসজুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতি কম থাকলেও সেই সময়টাতে প্রকৃতি যেন নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিয়েছে। ঈদের ছুটিতে নয়নাভিরাম গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারাদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই গজনী অবকাশ কেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্কে সময় কাটাতে আসবেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররাও ঈদকে সামনে রেখে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় ফটোগ্রাফার সবুজ বলেন-“আমরা এখানে ছবি তুলে যা আয় করি তা দিয়েই সংসার চালাই। রমজানে তেমন লোকজন ছিল না। তবে ঈদের সময় প্রচুর দর্শনার্থী আসবে, তখন আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে।”

স্থানীয় দর্শনার্থী মো. সজীব মিয়া বলেন-“রমজানের সময় এখানে তেমন কেউ আসেনি। তবে প্রতি ঈদেই প্রচুর দর্শনার্থী আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছি।”অপেক্ষা করছে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুর পদচারণা হবে।

গজনী বোটক্লাবের ইজারাদার এরশাদ হোসেন বলেন- “শীতের সময় অনেক দর্শনার্থী পেয়েছি। পরে রমজান মাসে দর্শনার্থী তেমন ছিল না। ঈদে প্রচুর মানুষ আসবে বলে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাইড গুলো রং করা হয়েছে। আশা করছি ঈদে ভালো ব্যবসা হবে এবং এক মাসের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পারবো।”

গজনী অবকাশ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন জানান-“রমজান মাসে সাধারণত পর্যটক আসে না। কিন্তু ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ পাহাড় দেখতে আসেন। তাই ব্যবসায়ীরা নতুন মাল তুলছেন, রাইডগুলো সাজানো হচ্ছে। আমরা আশা করছি এবার ভালো সাড়া পাবো।”

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহম্মেদ বলেন-“শেরপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হলো গজনী অবকাশ কেন্দ্র। ঈদকে সামনে রেখে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিবছর ঈদে এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। এবারও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

প্রকৃতি আর পাহাড়ের মনোরম সৌন্দর্যে ঘেরা শেরপুরের গারো পাহাড় তাই আবারও অপেক্ষা করছে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠার জন্য।

Related Articles

Back to top button