থানার ভেতর থেকে দম্পতি হেনস্তার অভিযোগে আটক ব্যক্তির ফেসবুক লাইভ
এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্বামীর সামনে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও দম্পতিকে হেনস্তার অভিযোগে আটক এক অভিযুক্ত থানার ভেতর থেকেই নিজ মোবাইল ফোনে লাইভ সম্প্রচার করেছেন।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সামী ৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ওই লাইভে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “তাকে ফাঁসানো হয়েছে। অন্যায়ভাবে তাকে তুলে এনে হেনস্তা করা হয়েছে এবং এর দায় উপজেলা প্রশাসন ও ওসিকে নিতে হবে।”
প্রসঙ্গত, একটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দম্পতি হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠে। এছাড়াও দম্পতিকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে মাদারগঞ্জ পৌর এলাকার খরকা বিল সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
আটককৃতরা হলেন-উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম সামী, সাইফ ও জাহিদ।
ঘটনার পর রাতেই ভুক্তভোগী দম্পতি মাদারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী শ্রী অনন্ত বাবু জানান- তিনি তার স্ত্রী নিশী রবি দাসকে নিয়ে বালিজুড়ি ঈদ মেলায় যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজন কিশোর তাদের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে আরও ১০–১২ জন কিশোর সেখানে জড়ো হয়। তারা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে এবং তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়। তিনি বাধা দিলে তাকে মারধর করে জিম্মি করে রাখা হয়। পরিস্থিতির একপর্যায়ে আশপাশে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়।
পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরপর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভের ঘটনাটি ঘটে।
মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি মির্জা হুমায়ুন কবীর বলেন- থানার মধ্য থেকে কোন আসামীর মোবাইলে লাইভ করাটা হয়তো পুলিশের গাফলতি নয়তো অসতর্কতা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরও সতর্ক থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।
তবে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ বলেন- “থানায় অভিযোগের পর হেনস্তার শিকার দম্পতি নিজেরাই অভিযুক্তদের শনাক্ত করেন। পরে আমরা তিনজনকে আটক করি। সামিউল ইসলাম সামীকে প্রথমে গেস্ট রুমে বসানো হয়েছিল। আমরা তদন্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় তার কাছে মোবাইল আছে, বিষয়টি খেয়াল করতে পারিনি। বুঝে ওঠার আগেই সে লাইভ সম্প্রচার করে ফেলে। পরে তাকে হাজতে নেওয়া হয়েছে। হাজতে লাইভ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে তার বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির আসছিল। সে নিজেকে সমন্বয়ক বলেও পরিচয় দিয়েছে।”
ওসি শাকের আহমেদ জানান, আটককৃতদের বুধবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে।




