স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুর জেলা ছাত্রদলের ৪৫৩ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরপরই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাপ্ত নেতা মো. সাইদুল মুরসালিন সাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। কমিটিতে জ্যেষ্ঠতা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সম্প্রতি ঘোষিত জেলা ছাত্রদলের এ বড় কমিটি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলাকালেই শনিবার (৩ মে) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি ‘পদত্যাগপত্র’ প্রকাশ করেন সাদ্দাম।
মো. সাইদুল মুরসালিন সাদ্দাম বর্তমানে ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক। এর আগে তিনি জামালপুর শহর ছাত্রদলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে সাদ্দামের পদত্যাগ ঘোষণার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ তার অবস্থানকে আত্মসম্মানের প্রশ্ন বলে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোষ্টে ওই পদত্যাগপত্রে সাদ্দাম লেখেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার প্রাণের সংগঠন এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করা ছিল তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য। কিন্তু নবগঠিত ছাত্রদল কমিটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, শ্রম ও জ্যেষ্ঠতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন- রাজনীতিতে সম্মান ও পদের একটি ধারাবাহিকতা থাকে। যখন দেখি সংগঠনের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপেক্ষা করে অপেক্ষাকৃত অনেক জুনিয়রদের সম্মানজনক স্থানে রাখা হয়েছে, তখন সেই কমিটিতে থাকা নিজের আত্মসম্মানের পরিপন্থী বলে মনে করি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন- পদ বা ক্ষমতার মোহ তার নেই, তবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন ও জ্যেষ্ঠতার সম্মান প্রত্যাশা করেন। ব্যক্তিগত নীতিবোধের জায়গা থেকে তিনি নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগের পাশাপাশি দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকেও অব্যাহতি ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদত্যাগ করা ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম মোবাইল ফোনে বলেন- ৫ তারিখের পরে উড়ে এসে জুড়ে বসা লোকদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটি করেছে এর মধ্যে অনেকেরই ছাত্রত্ব নাই। অনেকেই বিবাহিত। সিনিয়র জুনিয়র দেখা হয়নি। এমন কমিটিতে আমি থাকতে চাইনা। আমি দলকে ভালোবাসি।
এসব বিষয়ে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম শফিক মোবাইল ফোনে বলেন- “যদি ত্যাগী হয়- তাহলে বিবাহিত হলেও সমস্যা নেই। আর কমিটিতে অছাত্রত্ব থাকার বিষয়টি সঠিক নয়। আর সিনিয়র-জুনিয়র মিলেই কমিটি ঘোষনা করা হয়। যে ছেলেটি পদত্যাগ করেছে, সে সাংগঠনিকভাবে আমাদের বিষয়টি জানাইনি। তাই এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”




