দেওয়ানগঞ্জ

স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ঘুষের অভিযোগে ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাতুল হককে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে তাকে সরকারি কোনো আর্থিক সুবিধা কিংবা বকেয়া প্রাপ্য না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী (এনডিসি) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জানা যায়, সাজ্জাতুল হক জামালপুর পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকা কালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালে এসিল্যান্ড শিহাবুল আরিফ, সার্ভেয়ার নূর-এ-আহম্মেদ, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইমান আলীর স্বাক্ষর জাল করা, ভুয়া নামজারি ও ডি.সি.আরের মাধ্যমে হোল্ডিং খোলাসহ সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে ২০২৩ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) অনুযায়ী অসদাচরণ এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা-( ০৪/২০২৪ ) রজু করেন।

পরবর্তীতে তদন্তের জন্য স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক চৌধুরী বিশ্বনাথ আনন্দকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

এরপর চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪ (৬) নং বিধি মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের সুপারিশসহ জামালপুর জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রস্তাব পাঠান।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় কমিশনার গত ২৯ এপ্রিল স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে চাকরি থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন।

পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ এর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

অভিযোগের প্রকৃতি, গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক সব বিষয় বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (গ) নং বিধি মোতাবেক মো. সাজ্জাতুল হককে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর (২৯ এপ্রিল) স্বাক্ষরিত পত্রে চাকরি হতে অপসারণ সূচক গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়- সাজ্জাতুল হক ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া প্রাপ্য পাবেন না।

এ বিষয়ে সাজ্জাতুল হকের মোবাইলে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে ওই কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশ আমরা পেয়েছি। আজকে সরকারি বন্ধের দিন।অফিস খোলার পর ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে ফাইলপত্র বুঝে নিয়ে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Back to top button