পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছে জামালপুরের ১০ শতাংশ প্রবাসী
হৃদয় আহাম্মেদ শাওন, জামালপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি আসনে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ১০ শতাংশ প্রবাসী। নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে বাকিরা। প্রবাসীরা বলছেন- বিষয়টি জানতেন না তারা। এছাড়াও নানা জটিলতায় করা হয়নি নিবন্ধন। আর নিবন্ধনের এই সংখ্যাটি সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছে জেলার সচেতন ব্যক্তিরা। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো বলছে- আগামীতে এই কার্যক্রমকে আরো কার্যকরী করতে সরকারকে নিতে হবে নানামূখী পদক্ষেপ।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখনো বড় একটি অংশ রয়ে গেছে নিবন্ধনের বাইরে।
জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের তথ্যমতে- জামালপুর জেলায় দেড় লাখের বেশি ভোটার প্রবাসে অবস্থান করলেও পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন ১৬ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে অনুমোদন পেয়েছেন ১৬ হাজার ২৫৫ জন। জামালপুর-১ আসনে অনুমোদিত হয়েছে ২,৮২০ জন, জামালপুর-২ আসনে ২,০২৭ জন, জামালপুর-৩ আসনে ৪,৮১৬ জন, জামালপুর-৪ আসনে ২,৪৫৫ জন এবং জামালপুর-৫ আসনে অনুমোদিত হয়েছে ৪,১৭৯ জন প্রবাসী ভোটার।
নিবন্ধনের দিক থেকে এগিয়ে জামালপুর-৩ আসন, আর সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে জামালপুর-২ আসন। সবমিলিয়ে এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার প্রবাসী ভোটার।

প্রবাসীদের দাবি- পোস্টাল ভোটের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় অনেকেই নিবন্ধন করতে পারেননি। পাশাপাশি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ নয় বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থানরত জামালপুর সদর আসনের ভোটার মোঃ মফিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন-‘রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে আমি জানতাম না। কেউ আমাদের কখনো বলেনি। কোনো দল বা সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রসেসটি জানানো হয়নি। তাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারিনি।’
সাউথ ওয়েলস দেশের নিউপোর্ট অঞ্চলে বসবাসরত জামালপুর-৩ আসনের ভোটার মেহরাব চৌধুরী বলেন-‘রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। প্রবাসে যারা আছেন, তাদের বেশির ভাগই শ্রমিক, অল্প শিক্ষিত বা স্বশিক্ষিত নয়। তাদের অনেকেই বিষয়টি জানে না।’
সৌদি আরবের আভা শহরের গাড়ি চালক জামালপুর সদরের ভোটার মেহেদী হাসান বলেন- ‘রেজিস্ট্রেশনের যে প্রকিয়াটি চালু করা হয়েছে। তা খুবই কঠিন। এতো লেখাপড়া জানলে বা এতো কিছু জানলে কি আমরা প্রবাসে আসি। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি কঠিন বলে, অনেক প্রবাসী রেজিস্ট্রেশন করতে পারছে না।’
সৌদি আরবের আভা শহরে অবস্থানরত জামালপুর সদরের ভোটার বুরহান উদ্দিন বলেন-‘আমরা প্রথমবার প্রবাস থেকে ভোট দিবো। কিন্তু আমরা জানি না যে, কোন ভাবে আবেদন করতে হবে। কোনভাবে ভোট দিতে হবে। আমাদেরকে এইটা অনলাইনে দিতে হবে বা বলতে হবে যে এইভাবে আবেদন করতে হবে, এইভাবে দিতে হবে।’
এদিকে জেলার সচেতন ব্যক্তিদের মতে- মোট প্রবাসী ভোটারের মাত্র ১০ শতাংশ নিবন্ধিত হওয়ার বিষয়টি সন্তোষজনক নয়। তবে যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা যেন নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন। সে বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জামালপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি এডভোকেট ইউসূফ আলী বলেন- ‘অবশ্যই এই সংখ্যাটি কম এবং এটি হওয়ার উচিত ছিলো কমপক্ষে অর্ধেক ভোটার। দেড় লক্ষের মধ্যে যদি ৭০-৭৫ হাজার ভোটার এই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারতো। তাহলে এটা স্বাভাবিক ছিলো।’
জামালপুরের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন- ‘নি:সন্দেহে প্রবাসীদের ভোটাধিকার একটা শুভ উদ্যোগ সরকারের। কিন্তু আমাদের যে প্রবাসী। মোট সংখ্যা প্রবাসীর তার ১০ থেকে ১১ শতাংশ নিবন্ধিত হয়েছে। যদি এটা ৫০ শতাংশের বেশি হতো। তাহলে এটা সন্তুষ্টির মধ্যে আসে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জামালপুর জেলা শাখার আমির ও জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন- ‘আমাদের চাওয়া হলো। প্রবাসী যারা আছেন। সব প্রবাসী যাতে ভোট দিতে পারেন। এই নির্বাচনে, আসন্ন নির্বাচনে। এই ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি এই সরকারকে এটা করার জন্য আমি আবেদন জানাচ্ছি। জোড় দাবি জানাচ্ছি।’
জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জামালপুর সদর-৫ আসনের এমপি প্রার্থী শাহ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন-‘প্রবাসী যারা, তাদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে। তাদের মধ্যে উৎসাহ, আগ্রহ তৈরী করার ক্ষেত্রে যতটা প্রচার-প্রচারনা চালানো উচিত ছিলো। আমার কাছে মনে হয়েছে- সেই ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। যে কারনে আমরা মনে করি, এবার যে যাত্রাটা শুরু হয়েছে, আগামী দিনে আরো প্রবৃদ্ধি হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রচার-প্রচারনার ক্ষেত্রে সরকারের আরো পদক্ষেপ থাকার উচিত ছিলো বলে আমি মনে করি।’
তবে এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা।




