৩৩ মণের ‘বাংলার ডন’ কাঁপাবে কোরবানির হাট
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়ার আলিফ লাম এগ্রোতে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী এ ষাঁড়টি তিন বছর ধরে লালন পালন করছেন।
৩৩ মণ ওজনের বাংলার ডন লম্বায় ১১ ফুট এবং এর উচ্চতা ছয় ফুট দুই ইঞ্চি।
ফ্রিজিয়ান জাতের এ ষাঁড়টি প্রতিদিন সে খড় ও ৮০ কেজি ঘাস খায়। সঙ্গে দিতে হয় ২০ কেজি খৈল, ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়া। তার জন্য প্রতিদিনই থাকে বিশেষ আয়োজন। দিনে তিন থেকে চারবার শুধু গোসল করানো হয়।
আলিফ লাম এগ্রোর ম্যানেজার রফিক মিয়া বলেন- আমাদের খামারে অনেক গরু আছে এবার ঈদে বিক্রির মতো। তবে বাংলার ডনের মতো আর একটিও নেই। এবার পুরো শেরপুর কাঁপাবে বাংলার ডন। এটা কেজি হিসেবে বিক্রি করলেও দাম আসবে ১৫ লাখ টাকা। আমাদের খামারে আরো ২৫ – ২৮ মণের ৮/১০টি বড় গরু আছে। আর শতাধিক গরু বিক্রি করা যাবে।
তিনি আরও জানান- প্রতিদিন বাংলার ডনের অনেক যত্ন নিতে হয়। তিন/চার বার গোসল করানো হয়। দিনে ঘাস খায় ৮০ কেজি। সঙ্গে অন্যান্য খাবার তো আছেই।
খামারের শ্রমিক হাবিব বলেন- এত বড় গরু পালন করা সহজ নয়। আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো করে ষাঁড়টির যত্ন নিই। কারণ মালিক আমাদের যেমন আদর যত্ন করে বেতন দেন, আমরা তার বাংলার ডনেরও তেমন যত্ন নিই। মালিক কাছে থাকতে পারেন না বলে আমাদের কাছে প্রতিদিন বাংলার ডনের কথা জানতে চান। আমরা তার যত্নের অভাব হতে দিই না। সব গরুর চেয়ে তার প্রতি আমাদের আলাদা মহব্বত কাজ করে।
ঝিনাইগাতী থেকে দেখতে আসা রুবেল বলেন- আমি এর আগে এত বড় গরু দেখিনি। বড় গরুর কথা শুনে এক নজর দেখে গেলাম। আমারও ইচ্ছা হয়, এমন একটি গরু পালতে।
শেরপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজুয়ানুল হক ভূইয়া জানান- আমাদের গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের সুফল হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিজিয়ান ও শাহিয়াল জাতের অনেক বড় বড় গরু আমাদের কৃষকরা প্রস্তুত করেছেন। আসন্ন কোরবানির হাটে শেরপুরের বড় গরু গুলো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে গরুগুলো সুস্থ ও নিরাপদভাবে বিক্রি করতে পারেন।




