বকশীগঞ্জ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মৃত নবজাতককে হাতিয়ার করার অভিযোগ

মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ: জামালপুরের বকশীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এক মৃত নবজাতককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রসূতির স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া মৃত সন্তানকে প্রতিপক্ষের মারধরের কারণে মারা গেছে বলে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মানবিক পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে এভাবে মিথ্যা মামলার হাতিয়ার করায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান- গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে বগারচর ইউনিয়নের আলীরপাড়া গ্রামের শামীমের স্ত্রী ববি আক্তারের প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের লোকজন তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। ক্লিনিকের আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টেও গর্ভস্থ সন্তানের আগেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এই মৃত শিশুটিকে নিয়েই শুরু হয় চক্রান্ত। প্রসূতিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে দাবি করা হয়, গত ১৭ আগস্ট প্রতিপক্ষের লাথির আঘাতেই গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জেরিন জানান- তারা অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং প্রথমে রোগীকে হাসপাতালেও আনেননি। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে তারা চিকিৎসা না করিয়ে শেরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষা ও মেডিকেল নথিতে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়- মূলত এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। আলীরপাড়া গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে আসলাম, মল্লুক ও শামীমদের সঙ্গে একই এলাকার মৃত আবুল কালামের স্ত্রী রেজিয়া বেগমদের তিন বছর ধরে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ১৭ আগস্ট দুই পক্ষের সংঘর্ষে রেজিয়া বেগমের বড় ছেলে আলী হোসেন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সেই মামলা থেকে বাঁচতেই আসলাম বাদী হয়ে আবু রায়হানসহ চারজনকে আসামি করে পাল্টা আরেকটি মামলা করেন। ওই নতুন মামলাতেই ববি আক্তারকে মারধর ও লাথি মারার ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়।

এ বিষয়ে বগারচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজুর বলেন, ১৭ আগস্টের সংঘর্ষের কথা তিনি জানলেও কোনো গর্ভবতী নারীকে মারধরের কথা শোনেননি। অন্যদিকে ববি আক্তারের স্বামী শামীমের কাছে মারধরের পর কেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের কাছে বা আইনের আশ্রয় নেননি তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

মৃত নবজাতকের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আবু রায়হান বলেন- তাদের জমি জবরদখল ও ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় মামলা করায় এখন মৃত নবজাতককে নিয়ে নাটক সাজিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত থেকে নির্দেশনা পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Back to top button