রিক্সা চালককে ট্রাফিক পুলিশের মারধর:তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরে এক রিক্সা চালককে ট্রাফিক পুলিশের মারধরের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দানের পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন- জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অ্যপস) ইয়াহিয়া আল মামুন। এছাড়াও তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এবং ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে সোমবার দুপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে জামালপুর শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকার প্রধান ফটকের সামনে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিক সদস্যরা কাজ করতে হিমশিম খেয়ে যায়।
এসময় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সময় বিপরিত পাশ থেকে আসা একটি রিকশা ট্রাফিক নির্দেশনা অমান্য করে প্রধান সড়কে তুলে দেয়। এসময় দুই পক্ষের বাক বিতান্ডার এক ফাঁকে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন শুভ নামের এক রিকশা চালকের মুখমন্ডলে থাপ্পর ঘুষি মারলে ঘটনাস্থলে নাক ফেটে রক্তাক্ত হয়ে আহত হন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রিকশা চালককে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় অস্থায়ী ট্রাফিক টুল বক্সের সামনে সাধারণ মানুষের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এমন ভিডিও মুহুর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। চারিদিকে উঠে নিন্দার ঝড়।
আহত রিক্সা চালক শুভ বলেন- “ট্রাফিক স্যার বললো পিছায়ে দে। আমি বললাম গাড়ির পিছনে তো কোনো জায়গা নাই। কথা বলতেই তিনি আইসা আমাকে থাপ্পড় মারল। থাপ্পড় মাইরা সে এই মুখের মধ্যে ঘুষি মারছে। আমি বললাম স্যার আমারে ঘুষি মারলেন কেন? ‘বলতেই’ ওনি বলে এই শালার পুত আইগা! আমারে মাইরা সাইরা সে আবার বলে ‘শালার পুত আইগা। এইটা কী হলো? কোন দেশে আসলাম আমরা। অন্যদের জিগ্গেস করেন আমার দোষ আছে কিনা । সে আমাকে বিনা দোষে কেন মারল? আমি দোষ করতাম, সে আমাকে মারত। সে আমাকে মারত তাহলে হতো। আমি এটার বিচার চাই।”
জামালপুর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম বলেন-“রাগের মাথায় এ ঘটানা টি ঘটেছে। একজন দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার কখনো এইরকম আচরণ করতে পারে না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা তারাই নিবেন।”
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অ্যপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন-“ আমাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবো। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”




