৫০ হাজার মানুষের ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো: ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় যমুনার শাখা নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হচ্ছে।
উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা বাঁধের মাথা এলাকায় অবস্থিত ১০০ মিটার দীর্ঘ এই সাঁকোটি দুই উপজেলার চার ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সেতু না থাকায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স না ঢুকতে পারায় মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এ ছাড়া যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সঠিক সময়ে বাজারে নিতে পারছেন না, যার ফলে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাঁকো না পেরিয়ে যাতায়াত করতে গেলে ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত সাঁকোটির পাটাতন ও বাঁশ পচে গিয়ে অনেক স্থান ভেঙে গেছে। হেটে যাওয়ার সময় নড়বড়ে সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে দুলতে থাকে। এর ওপর দিয়েই প্রতিদিন বৃদ্ধ, শিশু, রোগী ও শিক্ষার্থীরা প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করছেন। সাঁকোর উভয় পাড়ে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও মসজিদ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে তুলে ধরেন, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এ এলাকায় কেউ আত্মীয়তা পর্যন্ত করতে চায় না। তারা আর কিছুই চান না, কেবল একটি সেতু চান।
ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তাওহীদ আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, সাঁকোটি পার হতে গিয়ে অনেক সময় পা পিছলে শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে যায় এবং বইপত্র নষ্টের পাশাপাশি অনেকে আহত হয়।
কৃষক নাজমুল ইসলাম মন্তব্য করেন, সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এখানে একটি সেতু হলে কৃষকদের অনেক উপকার হতো।
বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা জানান, একটি সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি নির্মিত হলে এলাকাবাসীর কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গাবেরগ্রাম-নাংলা সড়কের ওই স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে, যা বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।




