দেওয়ানগঞ্জ রুটে আন্তনগর ট্রেনের তীব্র আসন সংকট: নতুন ট্রেনের দাবি
মহসিন রেজা রুমেল,দেওয়ানগঞ্জ: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেনগুলোতে তীব্র আসন সংকট দেখা দিয়েছে। টিকিটের অভাবে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বৃহত্তর এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ। যাত্রীদের এই দুর্ভোগ লাঘবে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন একজোড়া আন্তনগর ট্রেন চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি এই রেলপথের সর্বশেষ গন্তব্য। সড়কপথে যাতায়াত সুবিধাজনক না হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ মূলত ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল। দেওয়ানগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বকশীগঞ্জ উপজেলা, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও রৌমারী এবং গাইবান্ধার বালাসী ও ফুলছড়ির যাত্রীরা এই স্টেশন থেকেই ঢাকার উদ্দেশে যাতায়াত করেন। ফলে প্রতিদিন স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। বর্তমানে এই রুটে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নামে দুটি আন্তনগর ট্রেন এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন দুটি কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। কমিউটার ট্রেনগুলো যত্রতত্র থামে বলে যাত্রীরা আন্তনগর ট্রেনের ওপরই বেশি নির্ভরশীল।
স্টেশন থেকে জানা যায়- দেওয়ানগঞ্জ স্টেশনের জন্য ঢাকার বরাদ্দকৃত আসন মাত্র ৪৫৮টি। এর মধ্যে তিস্তা এক্সপ্রেসে ২৪৮টি এবং ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে ২১০টি আসন রয়েছে, যা বিপুল সংখ্যক যাত্রীর তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাছাড়া ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ও প্রান্তিক যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম না জানায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থেকে আসা যাত্রী মাজম মাহমুদ জানান- অনলাইনে চেষ্টা করেও তিনি তিস্তা ট্রেনের টিকিট পাননি। বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া ও ভোগান্তি মাথায় নিয়ে অটোরিকশায় জামালপুর গিয়ে সেখান থেকে বাসে ঢাকা যেতে হচ্ছে তাকে।
দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের ইয়াকুব হোসেন বলেন- তিনি অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেন না। অন্যের সহায়তা নিয়েও টিকিট মেলে না। ফলে ট্রেনে করে ঢাকা যাওয়ার সুযোগ তার প্রায় হয়ই না।
ডাংধরা ইউনিয়নের শেখ শাদি জানান, যাত্রার চার দিন আগে চেষ্টা করেও তিনি টিকিট পাননি। কাউন্টারে গিয়েও তাকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে।
কৈবর্তপাড়া এলাকার আশুতোষ দাস বলেন, কয়েকটি উপজেলার মানুষের ভরসা এই স্টেশন, তাই বরাদ্দকৃত সামান্য টিকিট কোনোভাবেই যাত্রীদের জন্য যথেষ্ট নয়।
দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবদুল বাতেন যাত্রীদের চাপের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় বর্তমানে কালোবাজারি নেই। তবে যাত্রীর তুলনায় আসন সংখ্যা কম। শুধু আসন বাড়িয়ে এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। যাত্রীদের বিপুল চাহিদা মেটাতে এই রুটে নতুন একজোড়া আন্তনগর ট্রেন চালু করা হলে ঢাকাগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।




