ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েই মিমিকে হত্যা: কাউসার গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার: অনৈতিক সম্পর্ক ও ব্লাকমেইলের জেরে জামালপুর শহরের এক ভাড়া বাসায় ইশরাত জাহান মিমি নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত মোঃ কাউসার আহমেদ খানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃত কাউসার পিবিআইয়ের কাছে ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ২৩ আগস্ট সকাল ১০টায় জামালপুর সদর থানার পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেইটের কাছে একটি ভবনের ৫ম তলার কক্ষ থেকে মিমির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২৪ আগস্ট নিহতের মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসারসহ অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই জামালপুর জেলা ইউনিট স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দিন বিকেলেই শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে কাউসারকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে মিমির বিয়ে হলেও ২০২১ সালে তার স্বামী মারা যান। এরপর তিনি দুই সন্তান নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস শুরু করেন। প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের মুদি দোকানে কেনাকাটার সূত্রে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে মিমি কৌশলে কাউসারকে নিজ বাসায় ডেকে নেন এবং অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেন। মিমি সেই সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে তা দিয়ে নিয়মিত কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন।
কাউসারকে ইয়াবায় আসক্ত করার পাশাপাশি তার পরিবারকে ধ্বংস করতে মিমি তার জমানো টাকা, জমি বিক্রি এবং পরিবারিক অলঙ্কার বিক্রির অর্থও হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি মিমি অন্য লোকদের ফাঁদে ফেলতে কাউসারকে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ঘটনার দিন টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে অবৈধ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাউসার মিমিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান।
পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, আসামির স্বীকারোক্তি ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।




